নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র, স্বস্তি পেতে পারে ইরান

২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ইরান দলকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভ্রমণ বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হতে পারে। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচের মাত্র একদিন আগে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার দিনই দেশ ছাড়তে হচ্ছে। এই শর্তে তারা বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করা ম্যাচের পর ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোয়ি তার দলকে টুর্নামেন্টের ‘সবচেয়ে নিপীড়িত দল’ বলে মন্তব্য করেন।

বিশ্বকাপে ইরানের বেস ক্যাম্প মেক্সিকোতে। প্রথম দুই ম্যাচের জন্য লস অ্যাঞ্জেলেসে যাতায়াত তুলনামূলক সহজ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই ব্যবস্থাকে যৌক্তিক বলা হয়েছে। তবে ২৭ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে তাদের তৃতীয় গ্রুপ ম্যাচের আগে পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মেক্সিকো থেকে সিয়াটলের যাত্রা অনেক দীর্ঘ হওয়ায় ভ্রমণ নিয়মে কিছু ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট চান একদিকে যেন প্রতিযোগিতার ভারসাম্য বজায় থাকে, অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যায়। আমরা চাই ইরান দল যথাযথভাবে এসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের কারণেই ইরান দল বিশ্বকাপে অংশ নিতে পেরেছে। তারা ইতোমধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেসে খেলেছে এবং আবারও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবে।’

তবে আলোচনায় ইরান ফুটবল ফেডারেশন সরাসরি যুক্ত আছে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি জুলিয়ানি।

এদিকে ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, প্রতিটি ম্যাচের অন্তত দুই দিন আগে সংশ্লিষ্ট শহরে পৌঁছানো এবং ম্যাচের পরের দিন বেস ক্যাম্পে ফেরার সুযোগ দেওয়া উচিত। তাদের মতে, বর্তমান বিধিনিষেধ অন্যান্য দলের তুলনায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করছে না এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ফেডারেশন আরও জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করবে এবং ফিফার কাছে অভিযোগ দাখিল করবে।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরানের পরবর্তী ম্যাচ রোববার বেলজিয়ামের বিপক্ষে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ এখন ইরান দলের সামনে।

এসএন/কে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *