নিখোঁজের ৫ দিন পর ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ পাঁচ দিন পর শহিদুল মাতুব্বর (৩৫) নামে এক ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (১০ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের পান্থাপাড়া এলাকার একটি নির্জন ঝোপের মধ্য থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুই ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত শহিদুল মুকসুদপুর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল ছালাম মাতুব্বরের ছেলে। এই ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মুকসুদপুর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের নুর হোসেন এবং পলাশ শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার ও দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুন শনিবার সকালে জীবিকার তাগিদে নিজের ইজিবাইকটি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন চালক শহিদুল। তবে দিন শেষে রাতেও সে আর বাড়িতে ফিরে না আসায় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়ায় পরিবারের মাঝে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে কোনো সন্ধান না পেয়ে পরদিন ৭ জুন নিহতের ভাই শাহিদুল ইসলাম মুকসুদপুর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। জিডির পর মুকসুদপুর থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে নামে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে নুর হোসেন ও পলাশকে গ্রেপ্তার করে।

পরে পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তারা শহিদুলকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং তাদের দেওয়া তথ্য মতেই আজ বিকেলে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কাটাগাং সংলগ্ন পান্থপাড়া এলাকার একটি জঙ্গল থেকে শহিদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মূলত চালক শহিদুলের ইজিবাইকটি ছিনতাই করার উদ্দেশ্যেই দুই ঘাতক মিলে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ গুম করে। ইতিমধ্যেই ঘাতকদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে নিহত শহিদুল মাতুব্বরের ভাই শাহিদুল মাতুব্বর কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, গত শনিবার সকালে আমার ভাই ইজিবাইক চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরে আমরা খবর পাই যে গ্রামের নুর হোসেন ও পলাশ আমার ভাইকে সুকৌশলে ডেকে নিয়ে গেছে। মূলত আমার ভাইয়ের একমাত্র উপার্জনের সম্বল ইজিবাইকটি ছিনতাই করার জন্যই তারা আমার ভাইকে নির্মমভাবে মেরে ফেলেছে এবং মরদেহটি আলামত ধ্বংস করতে পুড়িয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করেছে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত খুনিদের আমি আদালতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ফাঁসির শাস্তি চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *