যাত্রীরা ট্রেনে ওফার সময় অভিনব কায়দায় জটলা সৃষ্টি করে মোবাইল ফোন ছিনতাই করার দায়ে পাঁচ ছিনতাইকারীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজার আদেশ দিয়েছেন ভৈরবের একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ রোববার (৭ জুন) দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আজিমুল হকের ভ্রাম্যমাণ আদালত এই সাজা দেন।
রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ওসি বলেন, গতকাল রাতে রেলওয়ে স্টেশনে পশ্চিম আউটারে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রী উঠার সময় কৌশলে কৃত্রিম জটলা তৈরি করে মোবাইল ফোন চুরির চেষ্টা করে স্টেশন এলাকার ছিনতাইকারী চক্র। রেলওয়ে পুলিশের চৌকস নজরদারি এড়াতে পারেনি এই চক্রটি। এ সময় রেলওয়ে পুলিশ ছিনতাইকারী নুর আলম, বিপ্লব, সবুজ মিয়া ও হাসান মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
সংবাদ সম্মেলন ওসি আরও বলেন, আসামি মো. বাবুল মিয়াকে প্লাটফর্মে যাত্রীদের মোবাইল ফোন চুরির চেষ্টাকালে হাতেনাতে ধরে আজ দুপুরে থানায় সোপর্দ করে স্থানীয় জনতা। এরপর গ্রেপ্তার করা পাঁচ ছিনতাইকারীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তারা বিচারকের কাছে অপরাধের কথা স্বীকার করে। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন।
গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিরা হলেন পৌর শহরের পঞ্চবটী এলাকার বাবুল মিয়া (২৮), নরসিংদী জেলার পলাশ থানার উত্তর চন্দন এলাকার সবুজ মিয়া (২২), কুমিল্লা জেলার চান্দিনা এলাকার এতরায়পুর এলাকার হাসান (২০), কোতোয়ালি থানার মুরাপাড়া এলাকার নুর আলম (২০) ও শুভপুর এলাকার বিপ্লব আহসান (২৬)।
ওসি জানান, এদের মধ্যে নুর আলম ও বিপ্লব আহসানকে তিন মাসের, সবুজ মিয়া ও হাসান মিয়াকে দুই মাসের কারাদণ্ড এবং বাবুল মিয়াকে ১৫ দিনের কারাদণ্ডাদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
সংবাদ সম্মেলনে স্টেশন এলাকায় যাত্রী হয়রানি ও ছিনতাই বন্ধে পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান ওসি।