লুটপাটের আখড়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর: টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগের তীর সাবেক মন্ত্রীর এপিএস হিল্টন-ও পিডি আব্দুর রহিমের দিকে।।

মো সোহেল রানা,অবৈধ অনিয়ম
​মাফিয়া রাজত্বের অবসান ঘটলেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে অনিয়ম ও টেন্ডার বাণিজ্যের হরিলুট। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেতরের মাফিয়া চক্রের চেনা চিত্র এক চুলও বদলায়নি।অভিযোগ রয়েছে, এই পুরো দুর্নীতির মূল সিন্ডিকেট এর প্রধান আর কেউ নন—আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের তৎকালীন এপিএস এবং ক্ষমতাধর এপিএস হিল্টন কুমার সাহা।
অনুসন্ধান বলছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের প্রভাব খাটিয়ে এই অধিদপ্তরের সব টেন্ডারই বাগিয়ে নিতেন হিলটন নামের এই ব্যক্তি। বর্তমানেও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা সম্পূর্ণ ব্যাহত করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন সরকারি খামারের টেন্ডার কার্যক্রমে এখনো একক রাজত্ব রয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকারের ফ্যাসিস্ট মন্ত্রীর পিএস হিলটন। সরাসরি সহযোগিতায় কোটি কোটি টাকার সরকারি কাজ হিলটনকে পাইয়ে দিতে সহযোগীতার অভিযোগ রয়েছে অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের তৎকালীন পিএস হিল্টন কুমার সাহাকে টেন্ডার পাইয়ে দিতে অযৌক্তিক সব শর্তের বেড়াজাল তৈরি করে রেখেছেন প্রকল্প পরিচালক বা পিডি আব্দুর রহিম নিজেই।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধিদপ্তরে গেলেও সংস্থাটির পিডি আব্দুর রহিমকে পাওয়া যায়নি। ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে ‘মিটিংয়ে আছেন’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার ফোন কল করেও সাড়া মেলেনি।
​ অনুসন্ধান বলছে, বিশেষ কোনো ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট কোনো সরবরাহকারীর পণ্যের সাথে হুবহু সামঞ্জস্য রেখেই প্রপ্সতুত করা হয় এই টেন্ডার ও শর্ত। যাতে সেই কাজ হিল্টন কুমার সাহার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই পায়।
​সূত্র বলছে, এইচ এন এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘লুৎফা এন্ড সন্স’ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক আওয়ামী লীগ সরকারের এক ঊর্ধ্বতন নেতা। গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই নেতা বর্তমানে পলাতক থাকলেও, হিল্টন কুমার সাহা অত্যন্ত চতুরতার সাথে বিভিন্ন মনগড়া শর্ত সংযুক্ত করে টেন্ডারে তাদের অংশগ্রহণ ও কার্যক্রম সম্পূর্ণ সক্রিয় রেখেছেন। নিজের আসল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ এই দুটি ছায়া প্রতিষ্ঠানও পর্দার আড়াল থেকে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন খোদ হিল্টন। ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের পরিষ্কার অভিযোগ—হাসিনা সরকার পালিয়ে গেলেও এই সাবেক মন্ত্রীর এপিএস কীভাবে এখনো রাজত্ব করছেন, তা দেখে মনে হচ্ছে যেন সর্ষের মধ্যেই ভূত ঘাপটি মেরে বসে আছে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে ।
​বযবসায়ীদের অভিযোগ, এই বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক শর্তের কারণে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ থেকে বঞ্চিত হলে, শেষ পর্যন্ত সরকার অনেক বেশি বা অতিরিক্ত মূল্যে নিম্নমানের খাদ্য উপকরণ ক্রয়ে বাধ্য হবে, যা সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ও কার্যকর ব্যবহারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
​এদিকে অনতিবিলম্বে এই দরপত্র সংশোধন করে সকল যোগ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত ও অবাধ প্রতিযোগিতার মাধমে টেন্ডার নিশ্চিত করতে করার দাবি ঠিকাদারদের। দাবি মানা না হলে রাজপথে আন্দলোনের হুশিয়ারিও দিয়েছেন তারা। বিস্তারিত আগামী পবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *