ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও শেষ মুহূর্তে ক্রেতা কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যাপারী ও খামারিরা। টানা বৃষ্টির কারণে হাটে ক্রেতার উপস্থিতিও কমে গেছে। এতে একদিনের ব্যবধানে গরুর দাম অনেকটাই পড়ে গেছে বলে দাবি বিক্রেতাদের। অপর দিকে দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
মঙ্গলবার (২৭ মে) ভোর ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটজুড়ে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের গরুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। এরপরও নতুন গরু নামানোর জন্য শত শত ট্রাক ও ট্রলারকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে চারটি গরু নিয়ে আসা ৭০ বছর বয়সী কৃষক ইউনুস পাটাদার বলেন, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজার ভালো ছিল। ৫ মণ ওজনের একটি গরু তিনি ১ লাখ ৮২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা কমে যাওয়ায় দাম হঠাৎ পড়ে যায়।
তিনি বলেন, “গতকাল যে গরুর দাম ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা বলেছিল, আজ সেটির দাম বলছে ১ লাখ ১০ হাজার। গরুপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা কম বলছে ক্রেতারা। এখন তো মাংসের দামও দিতে চাইছে না।”
চার মাস আগে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায় কেনা একটি গরুর বর্তমান দাম ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বলছেন ক্রেতারা উল্লেখ করে হতাশা প্রকাশ করেন এই কৃষক।
ইউনুস পাটাদারের ছেলে আইয়ুব আলী জানান, চার মাস একটি গরু পালন করতে অন্তত ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। এছাড়া হাটে আনতে চারটি গরুর জন্য পরিবহন খরচ হয়েছে প্রায় ৮ হাজার টাকা। এর বাইরে গরু বাঁধার জায়গার জন্যও অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়েছে।
তিনি বলেন, “একজন ব্যাপারীকে ১৭ হাজার টাকা দিয়ে জায়গা নিতে হয়েছে। এত খরচের পরও যদি ন্যায্যমূল্য না পাই, তাহলে খুব কষ্ট লাগে।”
জায়গা ভাড়া দেওয়া নজরুল ব্যাপারী জানান, গদিমালিকদের কাছ থেকে বেশি টাকায় জায়গা ভাড়া নিয়ে পরে অন্যদের কাছে ভাগ করে দিতে হয়।
তিনি বলেন, “৫০ হাজার টাকায় জায়গা নিয়েছিলাম। চারটি গরু বাঁধার জন্য তাকে ১৭ হাজার টাকায় দিয়েছি। পুরো হাটেই এভাবে টাকা দিতে হয়।”
এদিকে অবিক্রীত গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার শঙ্কায় রয়েছেন অনেক ব্যাপারী।

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থেকে ১৭টি গরু নিয়ে আসা আতিকুর রহমান জানান, ৩২ হাজার টাকা ট্রলার ভাড়া করে হাটে এলেও এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, “ভোররাতে গরু নামানোর পর দেখি বাজার পড়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে এখন ক্রেতাই নেই। গরু বিক্রি না হলেও প্রতিটি গরুর জন্য খুঁটিমালিককে দুই হাজার টাকা করে দিতে হবে।”
তবে সব ব্যাপারীর অবস্থা একই নয়। কুষ্টিয়া থেকে ১৫টি গরু নিয়ে আসা সেলিম ব্যাপারী জানান, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ভালো দামেই ১৩টি গরু বিক্রি করেছেন। যদিও আজ সকালে একটি গরু ১০ হাজার টাকা লোকসানে বিক্রি করতে হয়েছে।
হাটে গরু কিনতে আসা ফার্মগেটের বাসিন্দা সাকিব আল আমিন খান বলেন, “ভোরে হাটে এসেছি। গরুর সরবরাহ ভালো। তবে ব্যাপারীরা এখনো সহজে দাম ছাড়ছেন না। তারপরও আগের কয়েক দিনের তুলনায় ছোট ও মাঝারি গরুর দাম কিছুটা কম মনে হচ্ছে।”
হাটের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে ব্যাপারীদের আশঙ্কা, এবার হাটে থাকা সব গরু বিক্রি নাও হতে পারে। লোকসান গুনে অনেককেই অবিক্রীত গরু নিয়ে বাড়ি ফিরতে হতে পারে।
এসএন/পিডিকে