ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ইরাকের কুর্দিস্তান এলাকায় কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই প্রবাসী যুবক সেখানে একটি কনফেকশনারি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। এ ঘটনায় তাদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহতরা হলেন উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারী এলাকার খলিল মণ্ডলের ছেলে মনোহার আলী (৩৫) এবং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি এলাকার মরহুম আলাউদ্দিন মাস্টারের ছেলে বজলু (৪০)।পরিবার জানায়, মনোহার আলী প্রায় চার বছর আগে জীবিকার তাগিদে ইরাকে পাড়ি জমান। বৈধ ওয়ার্ক পারমিট বা আকামা না থাকায় বিভিন্ন সাপ্লাইয়ের কাজ করে কোনোমতে পরিবারের খরচ চালাতেন। বিদেশ যাওয়ার জন্য নেওয়া ঋণের বোঝা চার বছরেও শোধ করতে পারেননি তিনি। এর মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুর সংবাদে পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
স্বজনরা জানান, সকালে ঘূর্ণিঝড়ে তাদের বসতঘরের চাল উড়ে যায়। এতে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি।
নিহত মনোহার আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার বলেন, গতকাল রোববার বিকেলেও আমার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। আজ ভোরে ইরাক থেকে ফোন দিয়ে জানানো হয়, তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এখন সন্তানদের নিয়ে কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না। ঝড়ে ঘরটাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের কাছে স্বামীর মরদেহ দেশে আনার অনুরোধ জানাচ্ছি।
একই দুর্ঘটনায় নিহত বজলুও প্রায় দেড় বছর আগে কর্মসংস্থানের আশায় ইরাকে যান। ঋণ করে বিদেশে গেলেও পরিবারের আর্থিক অবস্থার তেমন উন্নতি করতে পারেননি। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
বজলুর স্ত্রী আঁখি আক্তার বলেন, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শেষবারের মতো তার সঙ্গে কথা হয়। ছেলে-মেয়েদের খোঁজ নিয়েছেন, দেশে ফেরার কথাও বলেছেন। তার এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। সরকারের কাছে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়দের মাধ্যমে জেনেছি। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।