সোশ্যাল মিডিয়া, টিভি-নিউজ পেপার খুললে, সবার আগে চোখে পড়ে ভয়ংকর সব সংবাদ। তার মধ্যে একটা হচ্ছে—নারী ও মেয়ে শিশুকে ধর্ষণের পরে খুন। একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। আর এসব ঘটনা নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করি, এর কিছু দিন পর ভুলে যাই। ভুলে না গিয়ে কোনো উপায়ও নাই। কারণ ততদিনে তারচেয়েও আরেকটা খারাপ ঘটনা ঘটে যায়। তাহলে আমরা কয়টা ঘটনা নিয়ে কথা বলব।
আমার মনে হয়, শুধু আইন দিয়ে এই অপরাধগুলো একেবারে কমানো সম্ভব না। আইনের সাথে সাথে আমরা দ্রুত বিচার চাই। এমন ঘটনা একটার পর একটা কেন ঘটছে, সেটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। এটা নিয়ে ভাবতে গেলে সমাজের কিছু দিক আমাদের চিন্তা করতে হবে, কোথায় সমস্যাটা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে পারিবারিক শিক্ষা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের দিকে যদি তাকান তাহলে দেখবেন, সেখানে মেয়েরা কীভাবে কাপড়-চোপড় পরবে, মেয়ের আস্তে আস্তে হাঁটবে, এমন অনেক কিছু শিখানো হয়। সবকিছু কেবল মেয়েদেরকে নিয়েই। মেয়েদের পাশাপাশি একটি ছেলে বাচ্চাকেও শেখানো উচিত—মেয়েদের কীভাবে সম্মান করবে। মেয়েদের সম্মান করার শিক্ষাটা প্রথমে আসে পরিবার থেকে; বাবা তার মাকে কীভাবে সম্মান করছে, এটা দেখলেই একটা ছেলে বুঝবে মেয়েদের প্রতি তার কতটুকু সম্মান থাকা উচিত।
নারীদের ওপরে অনিয়ন্ত্রিত সহিংসতা, ফ্রাস্ট্রেশন একটি বাচ্চা মেয়ের প্রতি কেন, কীভাবে আসে! কারণ খুঁজতে গিয়ে বেশ কিছু পয়েন্ট আউট করেছি। যেমন: পর্নোগ্রাফি, টক্সিক ম্যাসকুলিনিটি, ড্রাগ অ্যাবিউজ, চাইল্ডহুড ট্রমা। এগুলো পরিবার বা পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে আসে। এসব নিয়ে যখন সেই বাচ্চটা বড় হয়, তখন তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। একটি মেয়ে বা বাচ্চা মেয়ের সঙ্গে যা দেখতে পাচ্ছি, এটা তারই বহিঃপ্রকাশ।
আমাদের চিন্তা করতে হবে, আমরা কি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের ছেলেদের শিখাই? তাদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখাই? কিছু হলেই আমরা বলি—ছেলে মানুষ, ও তো এটা করবেই। এখান থেকেই কিন্তু ছোট ছোট অপরাধের সূচনা, যা বড় অপরাধে রূপ নেয়। শুধু আইন না, কিছু পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দরকার। রেসপেক্ট এডুকেশন, কনসেন্ট এডুকেশন স্কুলে শেখানো প্রয়োজন। এসব বিষয়ে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। শুধু আইন নিয়ে এসব অপরাধ নিরাময় করতে পারব না।
মেয়েদের তো আমরা শিক্ষা দিয়েই থাকি, আমার মনে হয় ছেলেদের শিক্ষাটা একটু কম দেয়া হয়; এ কারণে ঘটনাগুলো বেশি ঘটছে। একটা মেয়েকে কীভাবে সম্মান করতে হয়, তা যেন তাদেরকে আমরা বোঝাই। একটা বাচ্চা মেয়েকে ধর্ষণ করা হচ্ছে, এটা কেবল অসম্মান বা শারীরিক নির্যাতন না; শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি একটা মেয়ে ও তার পরিবারের সম্মানহানি হওয়া, মানসিক ট্রমা—সব দিক দিয়ে সে বিকারগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছে। আমাদের চিন্তা-চেতনা ও মনমানসিকতার উন্নতি হোক। যারা এরকম অপরাধ করেছে, তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক।
লেখক: মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও আইনজীবী
এসএন/পিডিকে