নাহিদ রানার ম্যাজিকে স্বপ্নের জয় বাংলাদেশের

শেষ বিকেলে ছিল রোমাঞ্চের হাতছানি! বাংলাদেশের সাহসী ইনিংস ঘোষণার পর মনে হচ্ছিল নাটক জমিয়ে দেবে পাকিস্তান। কিন্তু সেই সুযোগটা দিল না টাইগাররা। ঢাকা টেস্টের শেষ দিনের বিকেলটা আজ নিজেদের করে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। নাহিদ রানা-তাসকিন আহমেদ-তাইজুল ইসলামদের বোলিং দাপটে মিরপুরে অনায়াসেই জিতল বাংলাদেশ।

১০৪ রানে জিতে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ১-০-তে এগিয়ে গেল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। গতির ঝড় তুলে নাহিদ রানা তুলে নিয়েছেন ৫ উইকেট।

এটি শক্তিশালী পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তিন টেস্ট জয় বাংলাদেশের। তবে দেশের মাঠে এবারই প্রথম। এবার জিততে পাকিস্তানকে দ্বিতীয় ইনিংসে করতে হতো ২৬৮। কিন্তু বাংলাদেশের বোলিং তোপে পাকিস্তান অলআউট ১৬৩ রানে।

আজ ঢাকা টেস্টের শেষ দিনে ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ইমাম-উল-হককে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। এক পর্যায়ে আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি।

ফজল ১১৩ বলে ১১টি চারে ৬৬ রান করেন। তবে তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম। পরের ওভারেই সালমান আগাকে ফেরান তাসকিন। তিনি করেন ২৬ রান।

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেন নাহিদ রানা। নিজের গতি ও বাউন্সে পাকিস্তানের মধ্য ও নিম্নক্রমকে একাই ধসিয়ে দেন এই তরুণ পেসার। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌদ শাকিলকে টানা দুই ওভারে সাজঘরে ফেরানোর পর শেষদিকে শাহিন শাহ আফ্রিদিকেও আউট করে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে দেন তিনি।

৫২.৫ ওভারে ১৬৩ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। নাহিদ রানা ৪০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে গড়েন ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট শিকার। এর আগে তার সেরা ছিল ৬১ রানে ৫ উইকেট।

শেষ উইকেটে শাহিন শাহ আফ্রিদি নাহিদের বাউন্সার সামলাতে না পেরে শর্ট লেগে ক্যাচ দেন মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে। ১৪ বল খেলেও কোনো রান করতে পারেননি আফ্রিদি। অপর প্রান্তে ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস।

এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের আধিপত্য আরও স্পষ্ট করল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয় পেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ২৩ বছর। দীর্ঘ সময়ের সেই হতাশা কাটিয়ে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় টাইগাররা। সেই সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়ের পর এবার দেশের মাটিতেও পাকিস্তানকে হারাল শান্তর দল।

এর আগে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি এবং মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের ফিফটিতে ৪১৩ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান করে ৩৮৬ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৮৭ রান। মুমিনুল হক করেন ৫৬ রান। এছাড়া মুশফিকুর রহিম ২২, মেহেদী হাসান মিরাজ ২৪ এবং তাসকিন আহমেদ ১১ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত সাহসী ইনিংস ঘোষণা এবং দাপুটে বোলিংয়ে স্মরণীয় এক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

১৬ মে থেকে সিলেটে শুরু সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। তার আগে অনায়াসে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৪১৩ ও ২৪০/৯ (শান্ত ৮৭, মুমিনুল ৫৬, মিরাজ ২৪, মুশফিক ২২, তাসকিন ১১; হাসান ৩/৫২, নোমান ৩/৭৬, শাহিন ২/৫৪)।

পাকিস্তান: ৩৮৬ ও ১৬৩ (ফজল ৬৬, সালমান ২৬; নাহিদ রানা ৫/৪০, তাইজুল ২/২২)

ফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী

ম্যাচসেরা: নাজমুল হোসেন শান্ত

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *