রান্নাঘরের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে টমেটো। তরকারি, মাংসের ঝোল কিংবা সালাদ—প্রায় সর্বত্রই এটির ব্যবহার। পুষ্টিগুণেও ভরপুর এই সবজি। তবে অনেকের জন্য টমেটো মানেই অস্বস্তি—খাওয়ার পরই শুরু হয় বুক জ্বালা, গ্যাস কিংবা অ্যাসিডিটির সমস্যা।
এই অভিজ্ঞতা কিন্তু একেবারেই বিরল নয়। টমেটোর জেরে অ্যাসিড রিফ্ল্যাক্সের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। ‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, টমেটো ও টমেটো দিয়ে তৈরি খাবার ‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’ বা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ-এর সমস্যা বাড়ায়।
টমেটো খেলে কেন অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়ে?
টমেটোতে উচ্চমাত্রায় ম্যালিক অ্যাসিড এবং সাইট্রিক অ্যাসিড রয়েছে। এই অ্যাসিডগুলো পাকস্থলীতে গিয়ে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডের নিঃসরণ আরও বাড়িয়ে দেয়।
টমেটোতে অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি। এটি খাদ্যনালি ও পাকস্থলীর মাঝখানের কপাটিকা বা পেশিকে শিথিল করে দেয়। এর জেরে পাকস্থলীর অ্যাসিড উপরের দিকে উঠে আসে। তাই টমেটোর খেলেই অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দেয়।
কাঁচা নাকি রান্না করা—কোনটা বেশি সমস্যা করে?
অনেকেই ভাবেন কাঁচা টমেটোই বেশি ক্ষতিকর। বাস্তবে বিষয়টি উল্টো হতে পারে। কাঁচা টমেটো তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যকর। রান্না করা বা টমেটো কেচাপ, পিউরি, সস ইত্যাদি বেশি শরীরের ক্ষতি করে। প্রসেসিংয়ের সময়ে টমেটোতে অ্যাসিডের ঘনত্ব বেড়ে যায়। আর রান্নায় টমেটোর সময়ে আরও উপাদান মিশিয়ে অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। তাই টমেটো সস বা টমেটো স্যুপ খেলে গ্যাস-অ্যাসিডিটির সমস্যা বেশি হয়।
অ্যাসিডি সমস্যা এড়িয়ে টমেটো খাবেন কীভাবে?
টমেটোর মধ্যে লাইকোপেন নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি ফ্রি র্যাডিকেলের সঙ্গে লড়াই করে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং কোষকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। ত্বক এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করে টমেটো। ক্যানসার, প্রদাহের মতো রোগের ঝুঁকিও কমায়। তাই ডায়েট থেকে টমেটো বাদ দেওয়া চলবে না। শুধু খাওয়ার ধরন বদলাতে হবে।
— রান্নায় এক টুকরো টমেটো ব্যবহার করুন। ব্যবহারের আগে টমেটোর বীজ ফেলে দিন।
— টমেটোর সঙ্গে শসা, শাকসবজি, আলু-গাজরের মতো সবজি খান। এগুলো অ্যাসিডের পরিমাণকে ভারসাম্য রক্ষা করে।
— রাতে বা ঘুমাতে যাওয়ার আগে টমেটো খাবেন না। আর যদি বোঝেন যে টমেটো খেলে সমস্যা হচ্ছে, তা হলে সবজি না খাওয়াই ভালো।