বাড়ার পর বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করায় এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে হামলার তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে সপ্তাহের শুরুতে তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বাড়লেও ধাপে ধাপে কমতে শুরু করেছে।

আজ বুধবার (৬ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০০ দশমিক ৬০ ডলারে নেমেছে। বিনিয়োগকারীদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাসের ইঙ্গিত মেলায় বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে। ইরানের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখন শান্তির পথ বেছে নিতে আগ্রহী। প্রেসিডেন্টের প্রধান লক্ষ্য হলো একটি সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছানো।

বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে এই রুটে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার হুমকিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল। গত ৮ এপ্রিল ঘোষিত শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি ও বর্তমান কূটনৈতিক তৎপরতা ব্যবসায়ীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

তবে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় স্বাভাবিক বাণিজ্য শুরু না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়া কঠিন। বর্তমানে ইরান এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না জানালেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *