ছয় দিন বন্ধ থাকার পর দেশের উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম ভরসা দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার (১ মে) ভোর ৪টা ২২ মিনিটে প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ শেষে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এক নম্বর ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী মো. মোহসীনুল ফিরোজ জানান, মেরামত শেষে শুক্রবার ভোরে ১ নম্বর ইউনিটটি চালু করা হয়েছে এবং সেখান থেকে নিয়মিতভাবে ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
গত ২৫ এপ্রিল ১ নম্বর ইউনিটের বয়লারের পাইপ ফেটে যাওয়ায় ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেয়।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে উৎপাদিত কয়লার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০০৬ সালে দুটি ১২৫ মেগাওয়াট ইউনিট নিয়ে কেন্দ্রটির যাত্রা শুরু হয়। পরে ২০১৭ সালে আরও একটি ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিট যুক্ত হওয়ায় মোট উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২৫ মেগাওয়াটে। তবে নানা ধরনের যান্ত্রিক জটিলতার কারণে কেন্দ্রটি এখনও একসঙ্গে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী মো. মোহসীনুল ফিরোজ জানান, বর্তমানে ৩ নম্বর ইউনিটটির ওভারহোলিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, আগামী ১৫ মে’র মধ্যে ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হবে। এই ইউনিট চালু হলে উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে এবং লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে এর আগে দুটি ইউনিটই বন্ধ ছিল। গত ২২ এপ্রিল রাত ১০টা ২ মিনিটে কয়লার সঙ্গে বড় আকারের পাথর প্রবেশ করায় বয়লারের টিউব ফেটে কেন্দ্রটির একমাত্র সচল ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২৪ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে ইউনিটটি চালু করা হলেও রাত ৩টার দিকে আবারও ত্রুটি দেখা দেয়। ওই দিন বেলা ১১টা পর্যন্ত আংশিকভাবে চালু থাকলেও পুনরায় বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় ইউনিটটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় মারাত্মক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়।