যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে নতুন ‘স্ক্রিনিং ফ্রেমওয়ার্ক’ বা বাছাই কাঠামো চালু করেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এখন থেকে বিশ্বজুড়ে মার্কিন কনস্যুলার অফিসাররা ভিসা ইন্টারভিউ বা নথিপত্র যাচাইয়ের সময় আবেদনকারীদের জন্য বাড়তি দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন যুক্ত করবেন।
এই নতুন নীতি অনুযায়ী, আবেদনকারীকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর রাজনৈতিক আশ্রয় বা ‘অ্যাসাইলাম’ আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন কি না। একই সঙ্গে আরেকটি প্রশ্ন করা হবে, তিনি যদি নিজ দেশে ফিরে আসেন তবে কোনো ধরনের ক্ষতি বা দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার ভয় পান কি না।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, বিপুলসংখ্যক মানুষ পর্যটক বা শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করছেন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে তারা ভিসা পাওয়ার সময় নিজেদের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করেছেন। বিদ্যমান বাছাই পদ্ধতি এই ধরনের আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে অপর্যাপ্ত হওয়ায় প্রশ্নের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এই দুটি প্রশ্নের যেকোনো একটিতে ‘হ্যাঁ’ উত্তর দিলে অথবা উত্তর দিতে অস্বীকার করলে আবেদনকারীর ভিসা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। কারণ মার্কিন অভিবাসন আইন অনুযায়ী, নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার (যেমন : পর্যটক, শিক্ষার্থী বা এইচ-১বি কর্মী) ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হয় যে তার স্থায়ীভাবে থাকার কোনো ইচ্ছা নেই। সফর শেষে তিনি নিজ দেশে ফিরে আসবেন।
কিন্তু কেউ যদি রাজনৈতিক আশ্রয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেন বা দেশে ফিরে আসার ভয় পান, তবে তার সেই ‘অ-অভিবাসী উদ্দেশ্য’ প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এছাড়া এই প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য দেওয়াকে ফেডারেল অফিসারের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে গণ্য করা হবে। যার ফলে স্থায়ীভাবে মার্কিন ভিসার অযোগ্যতা বা আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে আবেদনকারীকে।
এই নতুন নিয়মটি পর্যটক, শিক্ষার্থী ও উচ্চপদস্থ পেশাজীবীসহ সব ধরনের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনকারীর জন্য কার্যকর হবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করা আইনগতভাবে বৈধ, তবুও অস্থায়ী ভিসায় প্রবেশের পর এমন দাবি করা মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থি বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ক্রমবর্ধমান অভিবাসন কড়াকড়ির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যা ভবিষ্যতে ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে।