স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা, কমেছে গ্রাহক

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। উচ্চমূল্যের প্রভাবে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে স্বর্ণ কেনার আগ্রহ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) প্রান্তিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বিশ্বজুড়ে গয়নার বাজারে চাহিদায় বড় ধস নেমেছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণেই সাধারণ ক্রেতারা গয়নার দোকান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। 

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স প্রায় ৫ হাজার ৬০০ ডলারে পৌঁছে নতুন রেকর্ড গড়েছিল। বর্তমানে দাম কিছুটা কমে ৪ হাজার ৬০০ ডলারের ঘরে নামলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি এখনও নাগালের বাইরে।

ডব্লিউজিসির পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম প্রান্তিকে গয়নার চাহিদা প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়াও গয়নার বাজারে মন্দা তৈরির অন্যতম কারণ। 

বাংলাদেশেও বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতার প্রভাব স্পষ্ট। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) চলতি বছর এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে।

সবশেষ গতকাল মঙ্গলবারও (২৮ এপ্রিল) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে, যেখানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। বারবার দাম পরিবর্তন হওয়ায় ও উচ্চমূল্য অপরিবর্তিত থাকায় সাধারণ গ্রাহকরা এখন স্বর্ণ কেনাকে ঝুঁকির মনে করছেন। অনেক জুয়েলারি ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। যারা আসছেন তারাও কেবল অতি প্রয়োজনে অল্প পরিমাণ স্বর্ণ কিনছেন। 

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অন্যদিকে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান স্বর্ণের বাজারকে সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেছে। এছাড়া অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমানে স্বর্ণ কেনার চেয়ে নগদ অর্থ হাতে রাখাকে বেশি নিরাপদ মনে করছেন। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার অনেক ফান্ড নগদ টাকার প্রয়োজনে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ বিক্রি করে দেওয়ায় বাজারে এক ধরনের তারল্য সংকট ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গয়নার বাজারে গ্রাহক ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ হুয়ান কার্লোস আরতিগাস জানান, স্বর্ণ বিশ্বজুড়ে সর্বজনগ্রাহ্য সম্পদ হওয়ায় সংকটের সময় নগদ টাকার প্রয়োজনে বিনিয়োগকারীরা সবার আগে এটিই বিক্রি করেন। গত ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। এই আকস্মিক অস্থিতিশীলতায় বাজার সামাল দিতে অনেক উত্তর আমেরিকান ফান্ড গোল্ড ইটিএফ থেকে বিনিয়োগ তুলে নিয়ে নগদ অর্থ সংগ্রহ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *