৫০ লাখ টাকার সড়ক ৩০ দিনেই ধস, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নগরপাড়া বাজার থেকে খালের সেতু পর্যন্ত ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঢালাই সড়ক চালুর মাত্র ৩০ দিনের মাথায় বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে বাজার এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো পাইপলাইন বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রধান সড়ক থেকে ভেতরে প্রবেশের পথ স্থায়ী জলাবদ্ধতায় ডুবে রয়েছে। এতে নগরপাড়া, কাজীবাড়ি, পূর্বপাড়াসহ পাঁচটি গ্রামের প্রায় সাত হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলেও শুরু থেকেই কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তাদের দাবি, নামমাত্র ইটের খোয়া ও কার্পেটিং করে নিম্নমানের নির্মাণকাজ করা হয়েছে এবং বরাদ্দের বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে শিশু, বৃদ্ধসহ অনেকেই চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। জলাবদ্ধতার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, দিনমজুর ও চাকরিজীবীদের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোনো যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে না পারায় অসুস্থ রোগীদের খাটিয়া বা কাঁধে করে বহন করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, ড্রেনেজের পাইপ না দেওয়ায় এখন ভেতরের পুরো রাস্তা পানিতে ডুবে থাকে, মানুষের চরম সমস্যা হচ্ছে।

স্থানীয় ব্রাইট শিশু কানন হাই স্কুলের শিক্ষার্থী রাহিদ ও রাশিদ বলেন, প্রতিদিন নোংরা পানি ভেঙে স্কুলে যেতে গিয়ে তাদের পায়ে চুলকানির সমস্যা দেখা দিয়েছে।

ব্যবসায়ী আবুল হাশেম বলেন, দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে ব্যবসা এখন লাটে উঠেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সড়কটি পুনর্নির্মাণ এবং স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপলাইন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখছেন।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *