আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বাকিগুলো প্রত্যাহার করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদে পাবনা-৩ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সংসদ সদস্য আলী আছগারের টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, মামলার সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে সারাদেশে বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয় এবং এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।
তবে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় হতে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী জানান, ফ্যাসিস্ট আমলে জামায়াতের নেতাকর্মীদের নামে কতটি মামলা হয়েছে সে সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২৬ সালের ৫ মার্চ রাজনৈতিক কারণে করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। মামলা প্রত্যাহারের আবেদনপত্র, এজাহার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চার্জশিটের সার্টিফাইড কপি এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে মামলাটি রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, জনস্বার্থে মামলা চালানোর প্রয়োজনীয়তা নেই এবং মামলা চালালে রাষ্ট্রের ক্ষতি হবে মর্মে পরিলক্ষিত হলে উক্ত কমিটি মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, জেলা কমিটির কাছ থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য সরকার ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্য বিশিষ্ট ‘কেন্দ্রীয় কমিটি’ গঠন করেছে। এ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। যেসব হয়রানিমূলক মামলা এখনও প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এর আগে আজ সকাল ১১টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন কার্যক্রম শুরু হয়।