১৩ বছর চাকরি করে ৯৯ ভরি স্বর্ণ সরিয়েছেন কর্মচারী, গ্রেপ্তার ৬

চট্টগ্রাম নগরীর একটি জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ করা ৫৫টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করেছে পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ। উদ্ধার হওয়া চুড়িগুলোর ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি, যা ১ হাজার ১৫৮ দশমিক ৩৩ গ্রাম। এ ঘটনায় দোকানের সেলসম্যানসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. সোহেল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ও পরিদর্শক (তদন্ত) আবিদ।

পুলিশ জানায়, নগরের প্রবর্তক মোড়সংলগ্ন মিমি সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন রোমেন দে (৩৬)।

গত ১৪ আগস্ট দোকানের স্বর্ণের মজুত হিসাব করার সময় বেশ কয়েকটি চুড়ি কম পাওয়া যায়। পরে দেখা যায়, স্বর্ণের চুড়িগুলোর পরিবর্তে সাতটি বাক্সে ইমিটেশনের চুড়ি রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় দোকানের মালিক বিপ্লব বসাক পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, আত্মসাৎ করা ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ির ওজন প্রায় ৯২৭ দশমিক ৫০০ গ্রাম বা ৭৯ দশমিক ৫১ ভরি। এসব স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা।

মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৮ আগস্ট রাত ২টার দিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন দে জানান, আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চুড়িগুলো বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে বন্ধক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি চুড়ি বাকলিয়ার মিয়াখান নগর রোডের ‘মডার্ন ইরানী জুয়েলার্স’র মালিক শ্যামল সিংহের কাছে বন্ধক রাখা হয়।

পরে ১৯ আগস্ট বোয়ালখালীর কানুনগোপাড়া এলাকা থেকে শ্যামল সিংহকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিয়াখান নগর রোডের মডার্ন ইরানী জুয়েলার্স থেকে সাতটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে শ্যামল সিংহ আরও ৩৯টি চুড়ি বিভিন্ন জুয়েলারি দোকান ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছে রাখার তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালি, বাকলিয়া ও চকবাজার এলাকার বিভিন্ন দোকান ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এসব চুড়ি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, সব মিলিয়ে ৫৫টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোর মোট ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি বা ১ হাজার ১৫৮ দশমিক ৩৩ গ্রাম। এ ঘটনায় রোমেন দে, শ্যামল সিংহ, জয় দে ওরফে বাবু (২২), রনি দে (২৮), স্বপ্না দে (৫৫) ও ইমন দে (১৯)- এই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। স্বর্ণ আত্মসাৎ ও পরে বিভিন্ন স্থানে বন্ধক রাখার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *