হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম থাকলেও দেওয়া হয়নি, হৃদয়ের মৃত্যু

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম থাকা সত্ত্বেও সাপের কামড়ে আক্রান্ত যুবককে তা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে বিল থেকে মাছ ধরে ফেরার পথে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন হৃদয় (২২) নামের এক প্রবাসীর সন্তান। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের মুরারীপুর গ্রামের হারেজ মিয়ার ছেলে। গতকাল শনিবার দুপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে হৃদয়কে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনেরা। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা বা অ্যান্টিভেনম না দিয়েই তাকে দ্রুত ফরিদপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বজনরা অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের আকুতি জানালেও কোনো ফল হয়নি। এছাড়া হাতে ক্যানুলা ঠিকমতো না লাগানো এবং চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলে নিহতের পরিবার। পরবর্তীতে অ্যাম্বুলেন্সে ফরিদপুর নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদয়ের মৃত্যু হয়।

নিহতের মা সুমি বেগম বলেন, হাসপাতালে সাপের কামড়ের ইনজেকশন থাকতেও আমার ছেলেকে দেওয়া হলো না। একটু চিকিৎসা পেলে হয়তো আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারতাম। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। 

চিকিৎসা না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আসিফ বলেন, অ্যান্টিভেনম দিলে পাশাপাশি একটা ইনজেকশন দরকার হয়, কারণ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাছাড়া হাসপাতালে আইসিইউ ব্যবস্থা না থাকায় রোগীকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. বেলায়েত হোসেন বলেন, হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম রয়েছে। তবে হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় রোগীকে ফরিদপুরে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। অ্যান্টিভেনম প্রয়োগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা অনেক সময় ঝুঁকি নিতে চান না।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নানের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অপারেশনে ব্যস্ত থাকায় পরবর্তীতে কথা বলবেন বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *