রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় স্কুল ফাঁকি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পুকুরে গোসল করতে গিয়ে উপজেলা প্রশাসনের হাতে ধরা পড়ে চার স্কুলশিক্ষার্থী। পরে তদন্তে শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে ছুটির আবেদন অনুমোদনের কপি ব্যবহার করে বিদ্যালয় ত্যাগের ঘটনাও সামনে আসে। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে পাংশা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা উপজেলা পরিষদের পূর্ব পাশের পুকুরঘাটে ইউনিফর্ম পরা চার স্কুলছাত্রকে দেখতে পান। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের পাংশা সরকারি জর্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেয় এবং টিফিনের ছুটিতে পুকুরে সাঁতার কাটতে এসেছে বলে জানায়।
এরপর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, ওই শিক্ষার্থীদের কাউকেই ছুটি দেওয়া হয়নি। এরপর তাদের উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে এনে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা স্বীকার করে এক সহপাঠীর আত্মীয়র বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার উদ্দেশে বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে পথে পুকুরে গোসল করছিল।
এরপর ওই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের জিম্মায় দেওয়া হয়। বিকেলে তাদের অভিভাবকরা এলে স্বীকার করে তারা শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে ছুটির আবেদন অনুমোদনের কপি তৈরি করে বিদ্যালয় ত্যাগ করেছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক বলেন, উপজেলা পরিষদের এই পুকুরে এর আগে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তাই সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানানো রয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতি, স্কুলের দেয়াল টপকে বের হওয়া এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ইউএনও আরও বলেন, চার শিক্ষার্থীরা সামনে এসএসসি পরীক্ষার্থী। অভিভাবক ও শিক্ষকদের অনুরোধের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের শেষবারের মতো সতর্ক করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অভিভাবকের উপস্থিতিতে ২০০ করে গাছের চারা রোপণের শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এতে তারা যেমন ভবিষ্যতে এমন কাজ থেকে বিরত থাকবে, তেমনি পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।