রাজধানীর পুরান ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড হাসপাতাল) সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ (৩৯) হত্যা মামলায় ২১ আসামির বিরুদ্ধে আরও দুজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আদালতে সাক্ষীর জবানবন্দিতে প্রত্যক্ষদর্শী আমির হোসেন জানান, হকিস্টিক, লাঠি ও পাথরের আঘাতে সোহাগ মারা যাওয়ার পর আসামিদের কয়েকজন তার নিথর দেহের ওপর উঠে উল্লাস করেন।
আজ রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আয়েশা আক্তার মৌসুমীর আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিচারক পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আজ এ মামলায় দুই প্রত্যক্ষদর্শী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা হলেন—নিহত সোহাগের দোকানের কর্মচারী আমির হোসেন এবং পাশের দোকানের কর্মচারী সাক্ষী মোহাম্মদ মিঠুন।
আদালতে সাক্ষী আমির হোসেন বলেন, ঘটনার সময় আসামিরা সোহাগ ও অন্যদের মারধর করতে করতে দোকান থেকে বের করে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে হকিস্টিক, লাঠি ও পাথর দিয়ে সোহাগকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সোহাগ মারা যান। এরপর আসামিদের কয়েকজন তার নিথর দেহের ওপর উঠে উল্লাস করেন। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
অন্য সাক্ষী মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, সোহাগের দোকানের পাশের একটি দোকানে কর্মরত ছিলেন। তার কর্মস্থল থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিসিটিভি ফুটেজ একটি পেনড্রাইভে সংগ্রহ করেন এবং এ সংক্রান্ত জব্দ তালিকায় তার সই নেন।
এ মামলার যে আসামিরা কারাগারে রয়েছেন, তারা হলেন—মাহমুদ হাসান মাহিন ওরফে মাহমুদুল হাসান (মহিন), তারেক রহমান রবিন, টিটন গাজী, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নানু কাজী, রিজওয়ান উদ্দীন ওরফে অভিজিৎ বসু, জহিরুল ইসলাম ও মো. সাগর, রুমান ব্যাপারী, আবির হোসেন, পারভেজ,জহিরুল, ইমরান, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, জিয়াউদ্দিন রাজীব, হোসেন চৌকিদার, সারোয়ার হোসেন টিটু, মঙ্গল মিয়া ওরফে মনির হোসেন ও অপু দাস।
নথি থেকে জানা গেছে, গত বছরের ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে একদল ব্যক্তি ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগের ওপর হামলা চালায়। মামলার এজাহারে বলা হয়, হামলাকারীরা তাকে পাথর দিয়ে আঘাত এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
ঘটনার পরদিন নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতায়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ২১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। একই সঙ্গে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করেন। তবে তদন্তে অসঙ্গতির বিষয় উল্লেখ করে আদালত পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। পরে চলতি বছরের ১০ মে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ পুনঃতদন্ত সম্পন্ন করে ২১ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।