সোনিয়া গান্ধির স্মৃতিচারণ

ক্যামব্রিজের রেস্তোরাঁয় রাজিবের সঙ্গে প্রথম দেখা, অতঃপর প্রেম-পরিণয়

ক্যামব্রিজের ছোট্ট একটি গ্রিক রেস্তোরাঁয় শুরু হয়েছিল ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজিব গান্ধি ও কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধির প্রেমের গল্প। সেই স্মৃতিই এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের প্রথম পোস্টে তুলে ধরেছেন সোনিয়া। একই সঙ্গে প্রকাশ করেছেন তার আসন্ন স্মৃতিকথা ‘বিলঙ্গিং: এ জার্নি অফ লাভ’’–এর এক ঝলক। বইটি প্রকাশিত হবে আগামী ১০ নভেম্বর। খবর এনডিটিভি‘র।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক্সে নিজের প্রথম পোস্টে সোনিয়া গান্ধি লেখেন, ‘ক্যামব্রিজের একটি ছোট গ্রিক রেস্তোরাঁয় আমার ভালোবাসার যাত্রা শুরু হয়েছিল। রাজিব ও আমি ভালোবাসা, হাসি আর স্মৃতিতে ভরা একটি জগৎ গড়ে তুলেছিলাম। ১০ নভেম্বর সেই জগৎ আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেব।’

পোস্টের সঙ্গে প্রকাশ করা প্রায় দুই মিনিটের ভিডিওতে পুরোনো ছবি দেখতে দেখতে রাজিব গান্ধির সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের গল্প শোনান তিনি।

সোনিয়া বলেন, ১৯৬৫ সালে যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজে তাদের প্রথম দেখা হয়। তখন তিনি নিজের পছন্দের খাবার, বিশেষ করে ইতালীয় খাবার পাওয়া যায়, এমন রেস্তোরাঁ খুঁজছিলেন। সে সময় ইংল্যান্ডে রেস্তোরাঁর সংখ্যা আজকের মতো ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

একপর্যায়ে তিনি খুঁজে পান একটি গ্রিক রেস্তোরাঁ। সেখানে ভারতীয় ও ইউরোপীয় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেতে যেতেন। ওই রেস্তোরাঁতেই এক কমন বন্ধুর মাধ্যমে রাজিব গান্ধির সঙ্গে পরিচয় হয় তার।

সোনিয়া বলেন, প্রথম দেখাতেই রাজিবের বিষয়ে বিশেষ অনুভূতি তৈরি হয়েছিল। পরে জানতে পারেন, রাজিবের অনুভূতিও ছিল ঠিক একই রকম।

রাজিব গান্ধির ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করে সোনিয়া বলেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুদর্শন। তবে তার কোমল স্বভাবও প্রথম সাক্ষাতেই সোনিয়াকে মুগ্ধ করেছিল। সেই স্মৃতি আজও তার মনে অমলিন। 

সোনিয়া ভিডিও-তে বলেন, প্রথম পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে দুজনের মধ্যে। বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া, একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের আয়োজিত ভ্যালেন্টাইনস পার্টিতে অংশ নেওয়ার স্মৃতিও এখনও উজ্জ্বল।

পরবর্তী সময়ে তাদের সেই সম্পর্ক পরিণয়ে রূপ নেয়। ১৯৬৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন সোনিয়া ও রাজিব গান্ধি। পরে রাজিব গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৯১ সালের মে মাসে তামিলনাড়ুতে নির্বাচনী প্রচারের সময় আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন তিনি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *