কয়েক দিন আগেই ফেডারেশন কাপের লড়াইয়ে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল বসুন্ধরা কিংস। এর ঠিক তিন দিনের মাথায় লিগ ম্যাচে একই প্রতিপক্ষকে পেয়ে এবার আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল বসুন্ধরা কিংস। ওয়ান্ডার্সকে রীতিমতো গোলবন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নিজেদের ঘরের মাঠ বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ম্যাচে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে বিধ্বস্ত করে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে কিংসরা। ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন তরুণ মিডফিল্ডার মোহাম্মদ সাব্বির। এ ছাড়া ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন করেছেন জোড়া গোল, আর বাকি দুটি গোল এসেছে মনীশ দাঙ্গি ও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর পা থেকে।
বৃষ্টির কারণে পানি জমে থাকা ভেজা মাঠে খেলা শুরুর মাত্র ২৪ সেকেন্ডের মাথায় লিড নিয়ে নেয় বসুন্ধরা কিংস। ডান দিক থেকে উইঙ্গার রাকিব হোসেনের বাড়ানো নিখুঁত ক্রসে ডি-বক্সের ভেতরের জটলার মধ্য থেকে দারুণ শটে বল জালে জড়িয়ে দেন নেপালি ফরোয়ার্ড মনীশ দাঙ্গি।
ম্যাচের বয়স যখন মাত্র পাঁচ মিনিট, ঠিক তখনই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে কিংসরা। নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে ইউসুফ আলীর বাড়িয়ে দেওয়া একটি লম্বা ফ্রি কিক খুব সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপান মোহাম্মদ সাব্বির।
ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ সময়ের ঠিক প্রথম মিনিটেই বড় বিপদে পড়ে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স। ডি-বক্সের বেশ কিছুটা বাইরে হাত দিয়ে বল ঠেকিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ওয়ান্ডারার্সের গোলরক্ষক জসিম উদ্দিন। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সফরকারীরা।
বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৪৯তম মিনিটেই নিজের নামের পাশে আরও একটি গোল যোগ করেন সাব্বির। দলের তারকা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার রবসন রবিনিওর দারুণ এক থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন সাব্বির। এরপর গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বক্সের সামনে থেকে চমৎকার এক চিপ শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন এই উদীয়মান মিডফিল্ডার।
ম্যাচের ৬৩তম মিনিটে দলের কৌশল বদলাতে গিয়ে সৌরভ বিক্রমকে তুলে নিয়ে দলের আরেক গোলরক্ষক তানভীর আহমেদকে মাঠে নামান ওয়ান্ডারার্সের কোচ আসাদুজ্জামান নুর। একই ম্যাচে বদলি হিসেবে তিনজন গোলকিপারকে খেলানোর এমন ঘটনা ফুটবল মাঠে বেশ বিরল। তবে এত নাটক সত্ত্বেও ওয়ান্ডারার্সের বড় হার এড়ানো সম্ভব হয়নি।
ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর কিংসের ফরোয়ার্ড রাকিবকে ফাউল করে বসেন ডিফেন্ডার জোবায়ের আহমেদ। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিক থেকে কোনো ভুল না করে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান ৪-০ তে নিয়ে যান রাকিব।
ম্যাচের ৮০তম মিনিটে নিজের একক ফুটবল দক্ষতার দারুণ এক ঝলক দেখান রবসন রবিনিও। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে দারুণভাবে কাটিয়ে দ্রুত গতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর তার বাড়িয়ে দেওয়া দারুণ ক্রসে কেবল পা ছুঁইয়ে স্কোরশিটে নিজের নাম লিখিয়ে নেন বদলি নামা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
এরপর ৮৯তম মিনিটে আবারও সেই রবসনের বাড়ানো নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন ফরোয়ার্ড রাকিব। আর ঠিক এর দুই মিনিট পর রাকিব নিজেই হয়ে যান গোলের জোগানদাতা। ডান দিক থেকে তার বাড়িয়ে দেওয়া দারুণ ক্রস থেকে হেডে নিজের হ্যাটট্রিকটি পূর্ণ করেন সাব্বির। রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বসুন্ধরা কিংস।