শ্রীলঙ্কায় গিয়ে শুটিং করেননি, বাড়তি টাকা দাবি করে ডাবিং বন্ধ রাখেন অভিনেতা

চলচ্চিত্র ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’কে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন সাবেক প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম খসরু। সম্প্রতি এক সেমিনারে তিনি নির্মাণ-সংক্রান্ত নানা জটিলতার পেছনের কারণ তুলে ধরে ইঙ্গিত দেন, সমস্যার বড় অংশই তৈরি হয়েছিল অভিনয়শিল্পীদের আচরণকে ঘিরে।

পরিচালক সমিতি আয়োজিত ‘আমাদের চলচ্চিত্র—আজকের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে খসরু বলেন, মুক্তির পর সব দায় প্রযোজকের ওপর চাপানো হলেও নির্মাণ-প্রক্রিয়ার ভেতরের বাস্তবতা খুব কমই সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, শ্রীলঙ্কায় টানা ১৬ দিন অবস্থান করেও শুটিং শুরু করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে, ভারতে শুটিং চলাকালে অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের দাবিতে ডাবিং বন্ধ থাকার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

তিনি আরও বলেন, প্রযোজক সমিতি সক্রিয় থাকলে এমন সংকট এতদূর গড়াত না। শুটিং বিলম্বের কারণ খতিয়ে দেখা, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান বের করা এবং নির্ধারিত সময়ে ডাবিং শেষ করার মতো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হতো।

খসরুর বক্তব্যে উঠে আসে আরেকটি দিক—চলচ্চিত্র নির্মাণের শেষ পর্যায়ে আর্থিক চাপ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়, তবে সে কারণে কাজ থেমে থাকা বা অসম্পূর্ণ অবস্থায় মুক্তি পাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতার ঘাটতিই এসব সমস্যার মূল।

এদিকে, ছবিটির পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ শ্রীলঙ্কায় শুটিং ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার না করলেও এ নিয়ে গণমাধ্যমে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই অনেক বিতর্ক হয়েছে, তাই নতুন করে কিছু বলতে আগ্রহী নন।

উল্লেখ্য, ঈদুল ফিতরে মুক্তির পর থেকেই ছবিটি নানা সমালোচনার মুখে পড়ে। পোস্ট-প্রোডাকশনের ত্রুটি, সাউন্ড ও ভিএফএক্সের দুর্বলতা, এমনকি গল্পের অসংগতিও দর্শকদের মধ্যে হতাশা তৈরি করে। প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে দেশের একটি বড় প্রেক্ষাগৃহ চেইনেও প্রথম কয়েকদিন প্রদর্শনী পায়নি ছবিটি। অনেক সিঙ্গেল স্ক্রিনেও মুক্তির দিন প্রদর্শন ব্যাহত হয়, যা নিয়ে কিছু হলে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে।

পরবর্তীতে এসব ত্রুটির কথা স্বীকার করে বিশেষ প্রদর্শনীতে ক্ষমা চান ছবির প্রধান অভিনেতা শাকিব খান।

নব্বইয়ের দশকের এক গ্যাংস্টারের গল্প নিয়ে নির্মিত এ ছবিতে শাকিব খানের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য এবং ইন্তেখাব দিনার। ছবিটি প্রযোজনা করেছেন শিরিন সুলতানা।

পরিচালকের বক্তব্য

দেশের একাধিক গণমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এক বিবৃতিতে সিনেমাটির পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ দাবি করেছেন, প্রিন্সের শুটিং বা ডাবিংয়ে শাকিব খান বাড়তি পারিশ্রমিক দাবি করেন এই অভিযোগ সত্য নয়। এমন আরও অনেক গুজব চারপাশে শোনা যাচ্ছে। কোনোটাই ঠিক না। আমি বা আমরা কোথাও এমন কোনো অভিযোগ আনিনি। জানিনা এই কথাগুলো কেন ছড়ালো! যিনি এই অভিযোগ জানিয়েছে এটা সম্পূর্ণ তার রেসপনসেবলিটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *