লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসন

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় লাইসেন্সবিহীন এবং অব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সম্প্রতি ২৩টি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

গত মঙ্গলবার (৫ মে) কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেহেনেওয়াজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে, আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদেশের মূল বিষয়সমূহ হলো- স্টাফদের তথ্য প্রদান, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ সকল স্টাফের নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠানে পেশাদার নার্স ছাড়াই সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এখন থেকে সরকারি বিধি মোতাবেক অবশ্যই ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ করতে হবে, অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সকল বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এই শৃঙ্খলা ফেরাতে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কেশবপুরের এসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিদর্শন করবেন।

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেহেনেওয়াজ বলেন, কেশবপুরে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। ক্লিনিকগুলোতে দক্ষ জনবল ও বৈধ কাগজপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লাইসেন্স ও স্টাফদের তথ্য দিতে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান সিলগালাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে অনিয়মের সাথে কোনো আপস নেই।

এই আদেশের অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খুলনার স্বাস্থ্য পরিচালক এবং যশোরের সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *