রোহিঙ্গা নাগরিকের ভুয়া এনআইডি তৈরির অভিযোগ

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসে টাকার বিনিময়ে আবারও দুই রোহিঙ্গা নাগরিকের ভুয়া বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা এসব এনআইডির মধ্যে ইতিমধ্যে একজনের কার্ড হস্তান্তরও করা হয়েছে। অন্যজনের তথ্য সার্ভারে আপলোড করা হলেও বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় হস্তান্তর স্থগিত রাখা হয়েছে।

এর আগে একই নির্বাচন অফিসে রোহিঙ্গা নাগরিককে এনআইডি করে দেওয়ার অপরাধে আউটসোর্সিংয়ের তিন কর্মীকে চাকরিচ্যুত এবং তৎকালীন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ ও বদলি করা হয়েছিল। কয়েক মাসের ব্যবধানে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে নির্বাচন অফিসের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে নূর হালিমা (২৫) ও মুজিবুর রহমান নামে দুজন রোহিঙ্গার এনআইডি তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এর মধ্যে নূর হালিমার এনআইডি গত ১১ আগস্ট আবেদনকারীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। অন্য আবেদনকারী মুজিবুর রহমানের ফাইলের তথ্যাদি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সার্ভারে সংরক্ষিত রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১১ আগস্ট রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে (অফিস সময় শেষ হওয়ার পর) কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসের নিজস্ব আইডি ব্যবহার করে গোপনে শুধু এই দুই রোহিঙ্গার কাগজপত্র নির্বাচন কমিশনের প্রধান সার্ভারে আপলোড করা হয়।

নূর হালিমার এনআইডিতে শান্তিনগর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ওমর আলী ও শরীফা খাতুনকে বাবা-মা হিসেবে দেখানো হয়। তবে সরেজমিনে শান্তিনগর গ্রামে গিয়ে অভিযুক্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বললে সত্যতা উন্মোচিত হয়। গৃহপ্রধান ওমর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তার চার সন্তান ছাড়া নূর হালিমা নামে কোনো মেয়ে নেই। নির্বাচন অফিসের লোকজন তার স্বাক্ষর নিয়ে তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে।

ওমর আলীর ছেলে শামীম মিয়া বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, নূর হালিমা আমাদের কেউ না। আমাদের মা-বাবার এনআইডি ব্যবহার করে কীভাবে একজন অপরিচিত রোহিঙ্গাকে আমাদের বোন বানানো হলো, তা ভেবে পাচ্ছি না।

স্থানীয় অধিবাসীদের দাবি, নতুন ভোটার হতে একাধিক প্রশাসনিক সনদ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যাচাই-বাছাই প্রয়োজন হয়। নির্বাচন অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ও গোপন আর্থিক লেনদেন ছাড়া রাতারাতি ভুয়া রোহিঙ্গা এনআইডি তৈরি অসম্ভব।

অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ওই দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র কীভাবে তৈরি হলো তা আমার জানা নেই। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর নূর হালিমার তথ্য ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে জানান, কলমাকান্দা নির্বাচন অফিসে বারবার একই জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে। এটি বরদাশত করা হবে না। সম্পূর্ণ অফিসে চিরুনি অভিযান চালিয়ে যুক্ত থাকা সবাইকে স্থায়ী বরখাস্তসহ কঠোর আইনি শাস্তির আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *