মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ধাতুটির দাম আরও বাড়ার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) প্রকাশিত বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যাপক চাহিদা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাই হবে স্বর্ণের দাম বাড়ার মূল কারণ।
রয়টার্সের এই জরিপে ৩১ জন বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী অংশ নেন। তাদের মতে, ২০২৬ সালে প্রতি আউন্স স্বর্ণের গড় দাম হতে পারে চার হাজার ৯১৬ ডলার, যা গত এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ পূর্বাভাস। মজার ব্যাপার হলো, মাত্র এক বছর আগেও বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিলেন এই দাম তিন হাজার ডলারের আশেপাশে থাকবে। এমনকি তিন মাস আগের হিসাব থেকেও এখনকার পূর্বাভাস অনেক বেশি।
চলতি বছরের জানুয়ারির শেষে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি পাঁচ হাজার ৫৯৫ ডলারে পৌঁছে রেকর্ড গড়েছিল। তবে ফেব্রুয়ারির শেষে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হলে বিনিয়োগকারীরা নগদ অর্থের প্রয়োজনে স্বর্ণ বিক্রি শুরু করেন, ফলে দাম প্রায় ১১ শতাংশ কমে যায়।
স্টোনএক্স-এর বিশ্লেষক রোনা ও’কনেল বলেন, ‘যদি যুদ্ধ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়, তবে বাজারে বড় ধরনের উত্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। পাঁচ হাজার ৫০০ ডলারের স্তরটি স্পর্শ করা আবারও অসম্ভব কিছু নয়।’
স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণ
বিশ্লেষকরা স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন, সেগুলো হলো :
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ডলারে ঝুঁকি কমাতে রেকর্ড পরিমাণে স্বর্ণ মজুত করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ঋণ ও ডলারের অবমূল্যায়ন বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ধাবিত করছে।
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ যদি সুদের হার কমিয়ে মুদ্রানীতি শিথিল করে, তবে বিনিয়োগের চাহিদা আরও বাড়বে।
স্বর্ণের ঊর্ধ্বমুখী ভাব থাকলেও রুপার দাম কিছুটা কমিয়ে ৭৮ ডলার করা হয়েছে। বিনিয়োগ প্রবাহ ও শিল্প চাহিদার কারণে ২০২৫ সালে রুপার দাম রেকর্ড ১৪৭ শতাংশ বাড়লেও, ২০২৬ সালে সৌরশক্তি খাতে চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় এর দাম ৮০ ডলারের আশেপাশে স্থির হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।