যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহায়তা নিয়ে আলোচনা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার (১১ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের (ইউএসবিবিসি) প্রেসিডেন্ট ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (দক্ষিণ এশিয়া) অতুল কেশপের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের ব্যবসায়ী নেতা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের অপার সুযোগ রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সরকার শুল্ক-সুবিধাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগকে বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে এক ছাতার নিচে আনতে এবং কার্যক্রম সহজ করতে সরকার ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে একটি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করেছে। গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে এ সংক্রান্ত প্রশাসনিক ও আইনি সুবিধা সুসংগঠিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাবনাও সরকার খতিয়ে দেখছে, যা দেশের জ্বালানি খাতের বহুমুখীকরণসহ সার্বিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, খাদ্যশস্য ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকারি পর্যায় (জি-টু-জি) থেকে শুরু করে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের বড় সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সুরক্ষার সুবিধার্থে ডিজিটাল নিরাপত্তা, স্মার্ট পুলিশিং ব্যবস্থার অধীনে ‘সেফ সিটি’ প্রজেক্ট, সীমান্ত নিরাপত্তায় ‘ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট’ এবং ই-ভিসা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশপ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান কোম্পানিগুলো গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং বর্তমানে তারা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী।

বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে অতুল কেশপ বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে টেকনিক্যাল ও ম্যানেজারিয়াল ক্যাপাসিটি উন্নয়ন এবং সেই সঙ্গে জিডিপি (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ও কর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।

মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে এই উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সরকারকে সার্বিক সহায়তা করতে পারে এবং অংশীদার হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা করেন ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *