প্রথমবার মা হয়েছেন ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা মারজান জেনিফা। গত ১০ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন ‘মুসাফির’খ্যাত এই নায়িকা।
২০১৬ সালে আশিকুর রহমান পরিচালিত ‘মুসাফির’ সিনেমা দিয়ে তার রুপালি পর্দায় অভিষেক হয়। সেখানে তার সহশিল্পী ছিলেন আরিফিন শুভ। সিনেমাটি দর্শকপ্রিয়তা পায় এবং অভিনয় দিয়ে সাড়া ফেলেন মারজান জেনিফাও। এরপর তেমন করে আর সিনেমায় নিয়মিত হননি তিনি।
বর্তমানে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানেই এই অভিনেত্রী গত ১০ আগস্ট রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। জেনিফা ও জোবায়ের আলম দম্পতির এটি প্রথম সন্তান। মা হওয়ার সুখবরটি নিজেই জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
সন্তান জন্মের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে মারজান জেনিফা জানান, দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টা প্রসববেদনা সহ্য করে স্বাভাবিকভাবে ছেলেকে জন্ম দিয়েছেন তিনি।
মা হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে জেনিফা লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ ১০ আগস্ট, রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে রাজপুত্রের মা হলাম। ৩২ ঘণ্টা লেবার পেইন সহ্য করে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে মা হওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই অসম্ভব।’
প্রথমবার সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখার মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, একজন নারী যখন প্রথমবার নিজের সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখান, তখন জীবনের সব কষ্ট, ভয়, দুশ্চিন্তা ও অশ্রু যেন মুহূর্তেই আনন্দ ও ভালোবাসায় পরিণত হয়।
প্রসবযন্ত্রণার স্মৃতিচারণ করে জেনিফা বলেন, দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টার সেই সময় কেটেছে অসহ্য প্রসববেদনা, অপেক্ষা, দুশ্চিন্তা ও অশ্রুর মধ্য দিয়ে। একপর্যায়ে তার মনে হয়েছিল, আর পারছেন না। তবে সন্তানকে প্রথমবার চোখের সামনে দেখে বুকে জড়িয়ে ধরার পর আগের সব কষ্টই সার্থক মনে হয়েছে।
মা হওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘মা হওয়া যে কতটা ত্যাগ, কতটা সাহস, কতটা ধৈর্য আর কতটা নিঃস্বার্থ ভালোবাসার নাম, আজ নিজের শরীর দিয়ে, নিজের জীবন দিয়ে অনুভব করলাম।’
সন্তান জন্মের সময় পাশে থাকা স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও যারা তার জন্য দোয়া করেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জেনিফা। একই সঙ্গে ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
জেনিফা আরও জানান, আল্লাহ যেন তার সন্তানকে সুস্থ, নেক, সৎ, জ্ঞানী ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন এবং তার জীবন ভালোবাসা, শান্তি, সফলতা ও কল্যাণে পূর্ণ করেন।
নতুন পরিচয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আজ আমি শুধু একজন নারী নই, আমি একজন মা। আর এই পরিচয়ই আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে মূল্যবান এবং সবচেয়ে গর্বের পরিচয়।’