মালয়েশিয়ার কেলান্তান রাজ্যের গুয়া মুসাংয়ের লোজিং হাইল্যান্ডসে পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়া বাংলাদেশি যুবক মো. ফাহাদের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে লোজিং ওল্ড রোডের একটি সবজি বাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে মালয়েশিয়ার ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগ।
দেশটির সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।
ফাহাদ হোসান কুমিল্লার বড়ুড়া উপজেলার বাসিন্দা। তার পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, জন্ম ১৯৯৯ সালের ৮ জানুয়ারি। তার বাবা আব্দুর রশীদ এবং মা হাসনেয়ারা বেগম।
পুলিশে দেওয়া অভিযোগের বিবৃতি অনুযায়ী, মোহাম্মদ বিল্লাল নামে এক ব্যক্তি গত ২ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে লোজিং ওল্ড রোডের সবজি বাগানে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বাগানের একটি পন্টক বা ছোট টংঘর ভূমিধসে মাটিচাপা পড়েছে।
মোহাম্মদ বিল্লালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই পন্টকটিতে ফাহাদ হোসান অবস্থান করছিলেন। এর আগে ১ অক্টোবর রাত আনুমানিক ২টার দিকে ওই এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এরপর ফাহাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। আশপাশের এলাকায় খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে ভূমিধসে ফাহাদ মাটিচাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করেন বিল্লাল।
পরে ফাহাদ নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে মোহাম্মদ বিল্লাল পুলিশে রিপোর্ট করেন। এরপর শুরু হয় উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান।
শনিবার সকাল ৮টায় দ্বিতীয় দিনের উদ্ধার অভিযান শুরু করে মালয়েশিয়ার ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগ। অভিযানে ২০ জন উদ্ধারকর্মী, তিনটি প্রশিক্ষিত ট্র্যাকার কুকুর এবং একটি এক্সকাভেটর অংশ নেয়।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের একপর্যায়ে ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগের কে-৯ ইউনিটের ট্র্যাকার কুকুর ‘ফ্র্যাঙ্কি’ মাটির স্তূপের নিচে ফাহাদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে উদ্ধারকারীরা মাটি সরিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
গুয়া মুসাং জেলা পুলিশের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট সিক চুন ফু মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফাহাদ হোসানের জরুরি যোগাযোগের ব্যক্তি হিসেবে তার বাবা আব্দুর রশীদের নাম উল্লেখ রয়েছে। কুমিল্লার বড়ুড়া উপজেলার বাসিন্দা এই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
লোজিং হাইল্যান্ডসের পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির পর ভূমিধসের এ ঘটনা ঘটে। দুই দিনের উদ্ধার অভিযানের পর কে-৯ ইউনিটের সহায়তায় অবশেষে ফাহাদ হোসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
sn/sks