মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন : সেই শিক্ষক কারাগারে

গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেম আহম্মদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এর আগে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা করেন। 

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসায় যাওয়ার পর সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ঘটনার পর শিশুটি কয়েক দিন প্রতিষ্ঠানে যেতে চাইছিল না। পরে পরিবারের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করলে তার বাবা আইনি পদক্ষেপ নেন। অন্যদিকে, মামলার বাদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর এবং নগদ টাকা ও মুঠোফোন লুটের অভিযোগ করা হয়েছে থানায়।

মামলার এজাহার ও পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে সাত বছর বয়সী ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয়। মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেম আহম্মদকে অভিযুক্ত করা হয়।

ঘটনার পর থেকে শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। প্রথমে সে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। পরে মা-বাবার কাছে ঘটনার কথা প্রকাশ করে বলে পরিবারের দাবি।

তাদের অভিযোগ, বিষয়টি কাউকে জানালে শিশুটিকে মারধর করা হবে বলে ভয় দেখানো হয়েছিল। এ কারণে সে ভয়ে ঘটনাটি গোপন রেখেছিল বলে স্বজনরা দাবি করেছেন।

শিশুটির কাছ থেকে অভিযোগ শোনার পর তার বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানতে চান। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

পরে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলার আসামি মো. মোসলেম আহম্মদের বাড়ি কুড়িগ্রামের রৌমারী থানার কর্তিবাড়ী মাস্টারপাড়া এলাকায়। তিনি টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত ভাইস প্রিন্সিপালকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ওসি  আরও বলেন, শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, সামগ্রিক সমাজের জন্যও গভীর উদ্বেগের বিষয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষক, পরিচালনা কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্ব রয়েছে। 

অন্যদিকে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কারি আলমাস বলেন তিনি থানায় একটি লিখিত  অভিযোগ করেছেন। একদল লোক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়, শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করে এবং নগদ প্রায় ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন নিয়ে যায়। এ সময় কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী আহত হন এবং নারী শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয় বলেও কর্তৃপক্ষের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *