বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় মধ্যরাতের আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আজ শুক্রবার (৮ মে) রাত আনুমানিক ২টার দিকে শুরু হওয়া আধা ঘণ্টার এই তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে, উপড়ে পড়েছে শতশত গাছ এবং মাটির সঙ্গে মিশে গেছে কৃষকের সোনালী ধানের ক্ষেত। ঝড়ের তীব্রতায় অনেক পরিবারের বসতঘরের চালা উড়ে গেছে এবং বিশাল বিশাল গাছ বৈদ্যুতিক তারের ওপর পড়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
উপজেলার সাধুবাড়ি ঘুটুবটতলা এলাকায় ঝড়ের ভয়াবহতা ছিল সবচেয়ে বেশি। সেখানে ফয়সাল হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীর গোডাউন ঘরের টিনের চাল উড়ে গিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে একটি বৈদ্যুতিক টাওয়ারের সঙ্গে আটকে যায়। এতে তার প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া পৌর শহরের নয়াপাড়া এলাকায় বড় আমগাছ উপড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে ছিল। প্রায় চার ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কুসুম্বি, শাহবন্দেগী, মির্জাপুর, গাড়িদহ, ভবানীপুর ও বিশালপুর ইউনিয়নের কৃষকরা। মাঠের পাকা ধান মাটিতে হেলে পড়ায় ফলন বিপর্যয় ও ধান কাটার খরচ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও কৃষকদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।