যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নীতিনির্ধারণী সভার তথ্য প্রকাশের আগে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকালের দরপতনের পর বিনিযোগকারীরা এখন সুদের হারের বিষয়ে নতুন নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন।
আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ৪ হাজার ৩৩৭.৫৯ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে। এর আগে মঙ্গলবার ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বাড়ায় স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছিল। অন্যদিকে ফিউচার মার্কেটে মার্কিন স্বর্ণের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৯১.২০ ডলারে নেমেছে। খবর রয়টার্সের।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে বন্ড বিক্রির চাপে প্রধান অর্থনীতিগুলোর ঋণের ব্যয় বাড়লেও মার্কিন বন্ডের মুনাফা আগের সর্বোচ্চ স্থান থেকে কিছুটা কমেছে। ওয়ানডার বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং জানান, ফেডের সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা কমে যাওয়া এবং বাজেট সংক্রান্ত উদ্বেগ স্বর্ণের দর ধরে রাখতে সাহায্য করছে।
বর্তমানে সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী মাসে ফেডের সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা ৬৪ শতাংশ। অন্যদিকে সুদের হার বাড়ার পক্ষে বাজি ধরা হয়েছে ৩৬ শতাংশ। দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্যের কারণে সুদের হার বাড়ার শঙ্কা অনেকটাই কমেছে। সাধারণত সুদের হার কম থাকলে সুদমুক্ত সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধারণের খরচ কমে যায়।
বাজার বিশ্লেষক লুকম্যান ওতুনুগা জানান, স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৯০ ডলার অতিক্রম করলে তা ৪ হাজার ৫০৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে ৪ হাজার ৩০০ ডলারের নিচে নামলে দাম ৪ হাজার ১৫০ ডলার পর্যন্ত কমতে পারে।
ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না। তিনি দাবি করেন হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে, যদিও ইরান তা বন্ধের দাবি করেছিল। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা চার সেশন ধরে বেড়েছে।
অন্যান্য কিমটি ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬২.৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম ০.১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭১৪.০৮ ডলার হলেও প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৮৩.৭৪ ডলারে নেমেছে।
টিডি সিকিউরিটিজ জানিয়েছে, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে মূল্যস্ফীতি কমলে ও ডলার দুর্বল হলে স্বর্ণের চেয়ে রুপা ও প্ল্যাটিনামের বাজার বেশি সুবিধা পেতে পারে।