মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমায় মঙ্গলবার (৯ জুন) স্বর্ণের দাম সামান্য বেড়েছে। তবে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে মার্কিন সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা স্বর্ণের এই দাম বৃদ্ধি অনেকটাই সীমিত ছিল।
আজ মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ড বা তাৎক্ষণিক সরবরাহকৃত স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স চার হাজার ৩৪০ দশমিক ৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের সেশনে ধাতুটির দাম গত ২৩ মার্চের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইরান ও ইসরায়েল একে অপরের ওপর হামলা বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। সাধারণত তেলের উচ্চমূল্য বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ায়, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে উসকে দেয়। তেলের দাম কমায় সেই চাপ কিছুটা কমেছে।
গত সপ্তাহের শক্তিশালী মার্কিন কর্মসংস্থান প্রতিবেদন চলতি বছরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা এখন আগামী ডিসেম্বরে ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির ৬৮ শতাংশ সম্ভাবনা ধরে নিচ্ছেন।
স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন জানিয়েছেন, আগামীকাল বুধবার (১০ জুন) আমেরিকার ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) বা মুদ্রাস্ফীতির রিপোর্ট প্রকাশ হবে। ধারণা করা হচ্ছে, গত তিন বছরের মধ্যে এবারই প্রথমবারের মতো মুদ্রাস্ফীতি চার শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর পাশাপাশি আগামী ১৭ জুনের মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (এফওএমসি) বৈঠকটিও বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর প্রথমবারের মতো একটি নির্দিষ্ট গড়ের (২০০-ডেইজ মুভিং অ্যাভারেজ) নিচে নেমে গেছে। সিটি ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, এই নিচে নেমে যাওয়া মোটেও ভালো লক্ষণ নয়; এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে খুব শিগগিরই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কিছুটা বেড়েছে। স্পট রূপার দাম শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক নয় শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৭৬৯ দশমিক ৮৩ ডলার ও প্যালাডিয়ামের দাম দুই দশমিক নয় শতাংশ বেড়ে এক হাজার ২৩৮ দশমিক ৬৬ ডলারে উঠেছে।