বিপিএল হচ্ছে না : বিসিবিকে যে বার্তা দিলো কোয়াব

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এবারের আসর মাঠে গড়াচ্ছে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল এটা আগেই জানিয়েছেন। বিপিএল না হলেও যেন ক্রিকেটারদের আয়ের বড় সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোর ম্যাচ ফি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)।

বিপিএল আয়োজন না করার কারণ হিসেবে তামিম দায়ী করেছেন, টুর্নামেন্টের কাঠামোগত দুর্বলতা, ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নানা অনিয়ম ও আর্থিক জটিলতার পাশাপাশি গত দুই আসরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসানকে। তার ভাষ্য মতে, তাড়াহুড়ো করে আয়োজন না করে সময় নিয়ে বিপিএলকে নতুনভাবে সাজাতে চায় বোর্ড। 

বিপিএল না হওয়ায় সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা ক্রিকেটারদের আয় নিয়ে। কারণ দেশের অনেক ক্রিকেটারের জন্য বিপিএল আয়ের অন্যতম বড় উৎস। বিষয়টি নিয়ে বিসিবির সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেছেন ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিরা।

আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দফার বৈঠক শেষে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানিয়েছেন, বিপিএলের বিকল্প হিসেবে আলাদা কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিসিবির নিয়মিত ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলো থেকেই ক্রিকেটাররা যেন ভালোভাবে আয় করতে পারেন, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মিঠুন বলেন, ‘বিপিএলের পরিবর্তে নতুন কোনো টুর্নামেন্ট হচ্ছে না। বিপিএলের যে আর্থিক ক্ষতি, এটা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব না। বিপিএল ভালোভাবে হোক, এটা যেমন আমাদের দাবি, তেমনি বোর্ডেরও দায়িত্ব।’

বিপিএল না হওয়ার ক্ষতি কীভাবে সামলানো যায়, সে বিষয়ে ক্রিকেটারদের দাবির কথাও তুলে ধরেন কোয়াব সভাপতি। তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল, যেন বিপিএল ছাড়াই আমাদের আর্থিক চিন্তা করতে না হয়। যেন অন্যান্য টুর্নামেন্ট দিয়েই আমরা ভালোভাবে চলতে পারি।’

এ ক্ষেত্রে জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) মতো ঘরোয়া প্রতিযোগিতাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মিঠুন জানিয়েছেন, ‘বিসিএল, এনসিএল যা হওয়ার সেগুলোই হবে। সেখান থেকে যতটা কাভার করে নেওয়া যায় আর্থিকভাবে, সেই চেষ্টা থাকবে।’

বিসিবিও ক্রিকেটারদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। প্রতি মৌসুমে আয়োজিত চারটি ঘরোয়া প্রতিযোগিতা, এনসিএলের চার দিনের ও টি-টোয়েন্টি সংস্করণ এবং বিসিএলের চার দিনের ও এক দিনের সংস্করণে ম্যাচ ফি বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। এসব টুর্নামেন্টে ম্যাচ ফি প্রায় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বোর্ড। তবে এ বিষয়ে বোর্ড সভায় অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। 

মিঠুনের মতে, লক্ষ্য শুধু বিপিএলের অভাবে এ বছর কয়েকজন ক্রিকেটারের আর্থিক ক্ষতি কমানো নয়। দীর্ঘমেয়াদে আরও বেশি ক্রিকেটারকে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে উপকৃত করার মতো একটি টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, ভবিষ্যতে ৫০ থেকে ৭০ জনের পরিবর্তে ১৫০ থেকে ২০০ ক্রিকেটার যেন ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে উপকৃত হতে পারেন, সেই বিষয়টি মাথায় রেখে আলোচনা হয়েছে।

এর আগে ২০ আগস্ট বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছিলেন, চলতি মৌসুমে বিপিএল আয়োজন করা হবে না। তার মতে, সঠিক কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া বিপিএল আয়োজনের চেয়ে সময় নিয়ে টুর্নামেন্টটিকে নতুনভাবে সাজানোই ভালো। প্রয়োজনে ১২, ১৮ কিংবা ২৪ মাস সময় নিয়েও ভালোভাবে বিপিএল আয়োজনের কথা জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *