প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা তাদের স্বার্থের প্রত্যেকটি কর্মসূচি আল্লাহর রহমতে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব। আজকের এ জনসভায় আমরা যেভাবে দুঃস্থ মানুষকে সহযোগিতা করেছি, এই সাহায্য এবং সহযোগিতাকে আমরা পরিবর্তন করতে চাই কর্মসংস্থানের মাধ্যমে।
আজ শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি, বিগত স্বৈরাচার আমলে এদেশের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাতকে গুটিসংখ্যক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল, যা এদেশের মানুষের পক্ষে নয়। সেই জ্বালানি ব্যবস্থা বা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গুটিকয়েক মানুষকে সুবিধা দিয়েছিল। যদি জনগণের স্বার্থে সেই পরিকল্পনা করতে হয় তাহলে স্বাভাবিকভাবে কিছু সময়ের প্রয়োজন। আমরা ইতোমধ্যে তার কাজে হাত দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের সামনে আগামী ১০ বছর আমাদের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে, আগামী ১০ বছর বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কী হবে, সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব। জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব। আমরা সেই পরিকল্পনা দিয়ে কাজ শুরু করব।
তারেক রহমান বলেন, আমরা খেয়াল করেছি, বিগত কিছুদিন ধরে কিছু মানুষ এ ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আপনাদেরকে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বিএনপি সরকার সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। আপনাদের যদি পরিকল্পনা থাকে, আসুন জনগণের সামনে তা উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না। বিভ্রান্তিকর কথা বলে জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না।
তারেক রহমান বলেন, এদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরের উপরে হয়ে গেছে। এখন জনগণের জন্য কাজ করার সময়, এখন দেশ গঠনে কাজ করার সময়। পৃথিবীর বহু দেশ আমাদের পরে স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু তারা কাজ করার মাধ্যমে পরিশ্রম করার মাধ্যমে তাদের দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। কাজেই আর পেছনে থাকা যাবে না আর পেছনে পড়ে থাকা যাবে না। এখন একটিই লক্ষ্য, একটিই উদ্দেশ্য—জনগণের জীবনমান উন্নত করা, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রিয় ভাই-বোনেরা, আমি আপনাদের সামনে যেসব পরিকল্পনা তুলে ধরেছি, আপনারা কি মনে করেন এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত করা সম্ভব হলে দেশের জনগণের ভাগ্য এবং দেশের ভাগ্য পরিবর্তন হবে? আমরা সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমরা সবসময় বলি, আমাদের অর্থাৎ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা প্রত্যেকটি জনগণের স্বার্থের কর্মসূচি ইনশআল্লাহ আল্লাহর রহমতে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।
তারেক রহমান বলেন, আজকের এই জনসভায় আমরা যেভাবে দুঃস্থ মানুষকে সহযোগিতা করেছি, এই সাহায্য এবং সহযোগিতাকে আমরা পরিবর্তন করতে চাই কর্মসংস্থানের মাধ্যমে। সেটি দেশের ভেতরে হোক বা আমাদের তরুণ সমাজের সদস্যদেরকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশে প্রেরণ করেই হোক না কেন, অর্থাৎ আমরা চাই বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে চাই। আমরা যাতে প্রত্যেকটি মানুষ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারি, যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ নিজের হাতের পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে, আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। আমরা সেই বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করেছি, কিন্তু অপেক্ষা করলে বসে থাকলে চলবে না। আমাদেরকে কাজ করতে হবে। আমাদের ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদেরকে মিল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান এবং শিল্পের বিপ্লব ঘটাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রিয় ভাই-বোনেরা, আসুন আজকের এই জনসভায় আমরা সেই শপথ গ্রহণ করি, সেই প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করি—বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না বিভ্রান্তকারীদের কোনোরকম প্ররোচনায়। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে। বাংলাদেশের মানুষ একই সঙ্গে তার দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে। সেই জন্যই আমরা বলি—করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।