বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দৃশ্যমান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হওয়ায় দেশে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দৃশ্যমান বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

আজ বৃস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) সংসদে এনসিপির সদস্য মো. আবুল হাসনাত (কুমিল্লা-৪)-এর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, রামিসা মামলা থেকে শুরু করে রংপুরে সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্বল্পতম সময়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের বিচার করা বিচার বিভাগের দায়িত্ব। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হলো— অপরাধ তদন্ত করা, সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা এবং তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপকভাবে ব্যর্থ হয়েছে— এমন অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ নির্দিষ্ট ঘটনা ও যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে করতে হবে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো নির্দিষ্ট ঘটনায় ব্যর্থ হয়েছে— এমন কোনো ঘটনা আপনারা উল্লেখ করতে পারলে ওই নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জবাব দিতে পারি।

সংসদ সদস্যের উদ্ধৃত অপরাধ সংক্রান্ত পরিসংখ্যানের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদে কোনো পরিসংখ্যান উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এর উৎস ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিও উল্লেখ করা উচিত।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সরকার এর আগে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংক্রান্ত বিস্তারিত পরিসংখ্যান সংসদে উপস্থাপন করেছে। কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ বিধির আওতায় দেওয়া বিবৃতির মাধ্যমেও বিভিন্ন ধরনের অপরাধের পরিসংখ্যান সংসদকে জানানো হয়েছে।

পুলিশ সদস্যদের নৈতিক প্রশিক্ষণ বিষয়ে অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে নৈতিক প্রশিক্ষণের জন্য পৃথক কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই।

একজন সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, কয়েকজন বিপথগামী পুলিশ সদস্যের অসদাচরণের কারণে পুরো পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া উচিত নয়। কারণ বাহিনীতে অনেক দক্ষ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ অ্যাকাডেমিগুলোতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই নৈতিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, বিষয়টি অনেক বিস্তৃত। পুলিশ বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ একাডেমিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এসব প্রশিক্ষণে নৈতিক প্রশিক্ষণ, শারীরিক প্রশিক্ষণ এবং অ্যাকাডেমিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে নৈতিক প্রশিক্ষণের জন্য আলাদা কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই।

বিভিন্ন স্থান থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা এবং এসব অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিতভাবে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সিরিয়াল নম্বর মিলিয়ে সেগুলো শনাক্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা লুট হওয়া কিছু আগ্নেয়াস্ত্রসহ নিয়মিত অস্ত্র উদ্ধার করছি। উদ্ধার করা অস্ত্রের নম্বর মিলিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ধরনের অস্ত্র উদ্ধার হলে গণমাধ্যমকে জানানো হচ্ছে।

কারাগারসহ বিভিন্ন স্থান থেকে লুট হওয়া সব অস্ত্রই শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আগের সরকারের সময়ে রাজনৈতিক বা দলীয় বিবেচনায় পুলিশে নিয়োগের অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, তদন্তে বিভিন্ন জেলায় হাজার হাজার পুলিশ কনস্টেবল ও অন্যান্য পদমর্যাদার সদস্য নিয়োগে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।

কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জেলার নিয়োগে যোগ্যতা অর্জনের জন্য আবেদনকারীরা ঠিকানা পরিবর্তন করেছিলেন বলেও জানান তিনি। এমনকি কেউ কেউ ছোট জমি কিনে সেই ঠিকানাকে স্থায়ী বা গ্রামের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করে নিয়োগের জন্য আবেদন করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও কিশোরগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তদন্ত আমরা অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছি। তদন্ত শেষ হলে এর ফলাফল জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *