ফ্রান্সজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

বেতন বাড়ানো ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ করেছেন কয়েক লাখ মানুষ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটির বিভিন্ন শহরে প্রায় ২০০টি বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৬ লাখ মানুষ। এ সময় কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। খবর আল জাজিরার। 

বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে- ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, সবার বেতন বাড়ানো, করব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করা। শিক্ষা, রেল, হাসপাতাল ও ডাক বিভাগের কর্মীরা ধর্মঘটে যোগ দেন। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৬ শতাংশ শিক্ষক কর্মবিরতি পালন করেন।

ধর্মঘটের কারণে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার ও আর্ক দ্য ত্রিয়ম্ফ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়। রাজধানীতে আয়োজিত সমাবেশে শ্রমিক সংগঠন সিজিটি নেত্রী সোফি বেনে বলেন, শ্রমিকেরা জিতবেন কি না, প্রশ্ন সেটি নয়; বরং কতটা অর্জন করতে পারবেন, সেটিই মূল বিষয়।

গত সেপ্টেম্বর থেকে ফ্রান্সে নিয়মিত বিক্ষোভ চলছে। শুরুতে সরকারি স্কুলের দুরবস্থার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলেও পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও আয়বৈষম্য নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ। গত ১৭ অক্টোবর আন্দোলন ঘিরে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

উত্তরাঞ্চলীয় শহর লিলে এক ইতিহাসের শিক্ষার্থী বলেন, কম বেতন, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবার সংকট নিয়ে দেশজুড়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মার্সেই শহরের এক সমাজকর্মীও জানান, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বেশির ভাগ মিছিল শান্তিপূর্ণ হলেও লিওঁ শহরে মুখোশধারী কয়েক শ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। সেখানে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। নঁতে শহরেও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। তুলুজের কাছে একটি স্কুলে আগুন লাগে। প্যারিসে একটি স্কুল অবরোধ ঠেকাতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ।

সহিংসতা ঠেকাতে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বিক্ষোভে সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তবে আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে কয়েকজন কিশোর গুরুতর আহত এবং হাজারো মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন।

এদিকে, আগামী এপ্রিলে ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী মেরিন লে পেন এগিয়ে রয়েছেন। একই সময়ে ইউরোজোনের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ফ্রান্স আর্থিক সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

জার্মানি ও পর্তুগালসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশেও জীবনযাত্রার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। এদিকে, মার্সেই থেকে প্যারিসে জি৭ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তকে কূটনীতিকেরা ‘বিশৃঙ্খল’ বলে বর্ণনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *