প্রাথমিক শিক্ষার নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মাসখানেকের মধ্যে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। নতুন নীতিমালার ভিত্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে বরিশাল নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘কোনো শিশু স্কুলের বাইরে থাকবে না এবং প্রতিটি শিশুই শিখবে’ এই দুই ভিশন বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, দেশের কোনো শিশু যেন শিক্ষার বাইরে না থাকে এবং প্রতিটি শিশু যেন বিদ্যালয়ে গিয়ে কার্যকরভাবে শিখতে পারে এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার, জবাবদিহি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে তিনটি বিভাগে (সিলেট,ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম) এ ধরনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। চলতি মাসের মধ্যে দেশের সব বিভাগে কর্মশালা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কর্মশালা থেকে পাওয়া মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। এ নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম আরও সমন্বিত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালিত হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব ও কার্যক্রম আরও সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ ও পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে বিভাগীয় উপপরিচালক (ডিডি), জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও), সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও), প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়বে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে অবকাঠামো ও গুণগত শিক্ষার সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু পাঠ্যবই বিতরণ বা শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করলেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হবে না। এর সঙ্গে শ্রেণিকক্ষের উপযুক্ত আয়তন, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, নিরাপদ ও সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় কারিকুলাম যথাযথভাবে অনুসরণ, যুগোপযোগী শিক্ষা পদ্ধতির প্রয়োগ, দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি গড়ে ওঠে প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে। তাই মানসম্মত, আধুনিক ও শিশুবান্ধব প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ পুরো প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারকে দায়িত্বশীল ও সমন্বিত ভূমিকা পালন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *