পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১০৪৪ ভরি স্বর্ণ ও ১০৮৮ ভরি রূপা

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে গত ছয় বছরে জমা হওয়া স্বার্ণ ও রুপার পরিমাপ সম্পন্ন হয়েছে। এতে রেকর্ড পরিমাণ এক হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং এক হাজার ৮৮ ভরি রৌপ্যলঙ্কার পাওয়া গেছে, যা কেজির হিসেবে ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম সোনা এবং ১২ কেজি ৬৯০ গ্রাম রুপা।

আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ এই বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপা প্রাপ্তির বিষ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। তবে দানবাক্সে পাওয়া বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব ও গণনার কাজ এখনও চলমান রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এর আগে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ট্রেজারি থেকে আনা ৯টি মাঝারি আকৃতির কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালাকৃত খাম খুলে সোনা-রুপার ওজন নির্ধারণের কাজ শুরু হয়। ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদে প্রতিদিন অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী নগদ টাকার পাশাপাশি মানত হিসেবে বিপুল পরিমাণ সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা দান করে থাকেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের একটি উপকমিটি পুরো পরিমাপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এতে তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার সদস্যসহ রূপালী ব্যাংক ও জুয়েলারি সমিতির প্রতিনিধিরা সরাসরি সহায়তা প্রদান করেন। কার্যক্রমটি তদারকি করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, সোনা ও রুপার নিখুঁত বাজারমূল্য নির্ধারণ করে বহুল প্রচারিত জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তা খোলা নিলামে বিক্রি করা হবে। প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রাগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।

সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া সোনা-রুপা খোলা নিলামের মাধ্যমে ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। তখন বিগত তিন বছরে জমা হওয়া ৪১৫ ভরি সোনা ও ১৮৪ ভরি রুপা বিক্রি হয়েছিল। ২০২০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৮ বার দানবাক্স খোলা হয়েছে। বর্তমানে পাগলা মসজিদের মূল তহবিলে জমা রয়েছে রেকর্ড ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। এছাড়াও অনলাইনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত এই অর্থ ঐতিহাসিক মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়ন, এতিমখানা ও সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *