পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স সহজ করতে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিজিএমইএর আলোচনা

তৈরি পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং নিরবচ্ছিন্ন শিল্প প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠকে তৈরি পোশাক ও টেকসই বস্ত্র খাতের বাস্তবতার সঙ্গে পরিবেশগত কমপ্লায়েন্সের সামঞ্জস্য বিধানের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এক প্রেস বিজ্ঞতির মাধ্যমে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সচিব মেজর মো. সাইফুল ইসলাম জানায়, বিজিএমইএ প্রতিনিধি দলে সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিটিএমইএর সাবেক সভাপতি এ মতিন চৌধুরী, বিজিএমইএর পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা, কিংসলের সিইও মো. আশিকুর রহমান।

বৈঠকে পোশাক শিল্পের নেতৃবৃন্দ টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতকরণে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি বেশকিছু নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩ এর প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলো। প্রতিনিধি দল উল্লেখ করে, বর্তমান ইটিপি কালার প্যারামিটারগুলো বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়ে অর্জন করা প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত কঠিন। তাই তারা একটি বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞানভিত্তিক মানদণ্ড নির্ধারণের অনুরোধ জানান।

জিরো লিকুইড ডিসচার্জ (জেডআইডি) বাস্তবায়নের বিষয়ে বিজিএমইএ প্রতিনিধি দল পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়নের ক্ষেত্রে বর্তমানের বাধ্যতামূলক অঙ্গীকারনামার পরিবর্তে একটি পর্যায়ক্রমিক ও পারফরম্যান্স-ভিত্তিক রোডম্যাপের প্রস্তাব করে। একই সাথে তারা পানি সাশ্রয় ও পুনর্ব্যবহারের জন্য সুনির্দিষ্ট টেকসই নির্দেশিকা তৈরি, জেডএলডি যন্ত্রপাতির ওপর ভ্যাট বা শুল্ক ছাড়ের মতো আর্থিক প্রণোদনা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ডের অধীনে একটি বিশেষায়িত জেডএলডি-উইন্ডো চালুর দাবি জানান।

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিনিধি দল পরিবেশগত স্যাম্পলিংয়ের জন্য একটি মিরর টেস্টিং মেকানিজম চালু করা এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে কমপ্লায়েন্ট কারখানার জন্য ঝুঁকি-ভিত্তিক, দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেয়। এছাড়াও শিল্পাঞ্চলের জমির ব্যবহার নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা দূর করতে বন অধ্যাদেশ (২০২৬) এর অধীনে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়নের তাগিদ দেওয়া হয়। চরম আবহাওয়ার কারণে পরিবেশগত প্যারামিটারের ওঠানামার সহনশীলতার সীমা নির্ধারণ এবং বাহ্যিক দূষণের উৎসগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বায়ুমান মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু জাতীয় অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্বীকার করেন এবং বিজিএমইএ এর প্রস্তাবগুলোকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন, শিল্পের ব্যবসায়িক প্রয়োজন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত কাঠামোর মাধ্যমে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে।

বৈঠকটি পোশাক শিল্পের পরিবেশবান্ধব রূপান্তর এবং বিশ্ববাজারে এর প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে একটি পূর্বাভাসযোগ্য ও সহায়ক নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির পারস্পরিক অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *