পরিবহন খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় একীভূত নীতিমালা জারি

আন্তর্জাতিক যাত্রী ও কার্গো পরিবহন-সেবার বিপরীতে দেশের বাইরে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় নতুন একীভূত নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৭ মে) জারি করা এক সার্কুলারে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন, বিদেশি এয়ারলাইন্স, শিপিং কোম্পানি এবং কার্গো সেবার টিকিট ও চার্জ সংগ্রহসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের জন্য অভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবহন খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত নিয়ন্ত্রক কাঠামো চালু করা হলো। এর ফলে প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমবে, বিধিবিধান প্রতিপালন সহজ হবে এবং এতদিনের বিচ্ছিন্ন নির্দেশনার কারণে থাকা অস্পষ্টতা দূর হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও বহিঃগামী রেমিট্যান্স কার্যক্রম বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ এবং সংশ্লিষ্ট সার্কুলারের আওতায় পরিচালিত হবে। তবে কার্যক্রম সহজ করতে পরিবহন খাত-সংশ্লিষ্ট পূর্ববর্তী সব নির্দেশনা একত্র করে একটি সমন্বিত দলিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু বিধানে সংশোধনও আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের ২০(৩) ধারার আওতায় এই সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এটি জারির তারিখ থেকে একবছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এ সময়ের মধ্যে জারি হওয়া নতুন নির্দেশনাগুলোও এই কাঠামোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে বিবেচিত হবে।

নতুন নির্দেশনায় আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন ও কার্গো সেবার টিকিট ইস্যু, ফ্রেইট চার্জ সংগ্রহ, বিদেশি এয়ারলাইন ও শিপিং কোম্পানির বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান— বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের লেনদেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া বেসরকারি শিপিং কোম্পানি, এয়ারলাইন, কুরিয়ার সার্ভিস ও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের জন্যও আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিপিং কোম্পানি, এয়ারলাইন ও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং এজেন্সিগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার বিধানও এতে সংযোজন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী বাংলাদেশি পরিবহন কোম্পানির নামে পরিচালিত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবও নতুন নীতিমালার আওতায় আনা হয়েছে।

সার্কুলারে ট্যুর অপারেটরদের জন্যও হালনাগাদ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, দ্রুত সম্প্রসারিত-সেবা খাতে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন সমন্বিত কাঠামোর ফলে পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে বহিঃগামী রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে। একইসঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *