সিরাজগঞ্জ পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজন হত্যা মামলায় নিহত নেতার স্ত্রীসহ দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—নিহত যুবদল নেতা সুজনের স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথি এবং শাহজাদপুর উপজেলার মাধলা গ্রামের মনিরুল ফকির। রায় ঘোষণার সময় আসামি মনিরুল আদালতে উপস্থিত থাকলেও সুজনের স্ত্রী তিথি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসেকিউটর (এপিপি) শামছুজ্জোহা শাহানশাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ মামলায় মোট চারজন আসামি ছিলেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন এবং অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় বাকি দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেন।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০০৫ সালে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মীরপুর বিড়ালাকুঠি মহল্লার গোলাম রহমানের মেয়ে উম্মে জামিলা তিথির সঙ্গে যুবদল নেতা সেলিম রেজা সুজনের বিয়ে হয়। রাজনৈতিক মামলার আসামি হওয়ায় সুজন গ্রেপ্তার এড়াতে প্রায়ই রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারতেন না। এই সুযোগে তার স্ত্রী অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। মোবাইল ফোনে অন্য যুবকদের সঙ্গে কথা বলা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিয়মিত বিরোধ চলছিল।
এরই জেরে ২০১৫ সালের ১ জুন দুপুরে সুজন পুকুরে গোসল করতে গেলে তার স্ত্রী চেতনানাশক মিশ্রিত শরবত বানিয়ে তা সুজনকে খাওয়ান। শরবত খেয়ে ঘরে এসে ঘুমিয়ে পড়েন সুজন। পরে সুযোগ বুঝে ঘাতকেরা ঘরে ঢুকে রাত সোয়া ৮টার দিকে ঘুমন্ত সুজনকে গলা কেটে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের মা মাজেদা খাতুন বাদী হয়ে সুজনের স্ত্রী ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছিল।