বিশ্বকাপের মঞ্চে নেইমার মানেই আলাদা এক উত্তেজনা। ব্রাজিলের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন, যার পায়ের জাদুতে বদলে যেতে পারে ম্যাচের চিত্র-সেই নেইমারই এবার টুর্নামেন্টের শুরুতে ছিলেন মাঠের বাইরে। কিন্তু স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে এখন স্বস্তির খবর-ফিরছেন তিনি!
কাফের চোটে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলকে খেলতে হয়েছে নেইমারবিহীন আক্রমণ নিয়ে। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। পূর্ণমাত্রার অনুশীলনে ফিরে নিজের ফিটনেসের প্রমাণ দিতে শুরু করেছেন তিনি।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার ভোরের ম্যাচে কি তাকে মাঠে নামাবেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি?
নেইমারের জন্য এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ম্যাচ খেলার বিষয় নয়, এটি দীর্ঘ এক লড়াইয়ের পর ফিরে আসার গল্প। ২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ভয়াবহ হাঁটুর চোট পান তিনি। সেই চোট তাকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিটকে দেয়। এরপর ক্লাব ফুটবলেও ইনজুরির ধাক্কা পোহাতে হয়েছে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে।
একসময় জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ নেইমার দীর্ঘ সময় ব্রাজিলের জার্সিতে ছিলেন অনুপস্থিত। প্রায় ৬৫০ দিনের বেশি সময় পর আবার জাতীয় দলে ফিরে আসাটাই ছিল তার জন্য বড় অর্জন। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এসে আবারও ইনজুরি তাকে থামিয়ে দেয়। এবার সেই বাধা পেরিয়ে তিনি ফিরছেন নিজের সবচেয়ে বড় মঞ্চে।
নেইমারের ফেরার সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো তার অনুশীলনের পারফরম্যান্স। ব্রাজিলের উইঙ্গার গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি জানিয়েছেন, অনুশীলনে নেইমারকে দেখে বোঝা যাচ্ছে তিনি কতটা প্রস্তুত এবং মাঠে ফেরার জন্য কতটা আগ্রহী। নেইমারের মান নিয়ে কখনোই প্রশ্ন ছিল না। তার সৃজনশীলতা, একের পর এক ডিফেন্ডার কাটিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা এবং গোল তৈরি করার দক্ষতা ব্রাজিলের আক্রমণে আলাদা মাত্রা যোগ করে। এখন বিষয়টি শুধু তার ফিটনেস এবং ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হওয়ার।
নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফেরার আনন্দ প্রকাশ করেছেন নেইমার। দীর্ঘ পুনর্বাসনের পর জাতীয় দলের পরিবেশে পুরোপুরি ফিরতে পারাকে তিনি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। গ্রুপ পর্বে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের পর হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চার পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে সেলেসাওরা।
গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষে থাকা ব্রাজিলের সামনে এখন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এই ম্যাচে জয় বা ড্র এবং অন্য ফলাফল অনুকূলে থাকলে গ্রুপসেরা হিসেবেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে তাদের। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেইমারের উপস্থিতি ব্রাজিলের জন্য শুধু একজন খেলোয়াড়ের ফেরা নয়, বরং আত্মবিশ্বাসেরও বড় উৎস হতে পারে।
কারণ বড় ম্যাচে নেইমারের অভিজ্ঞতা, চাপ সামলানোর ক্ষমতা এবং মুহূর্ত তৈরি করার দক্ষতা ব্রাজিলকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
নেইমারের ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ সবসময় বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। ব্রাজিলের হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স করলেও বিশ্বকাপ ট্রফি এখনো অধরা তার জন্য। ২০২৬ বিশ্বকাপকে অনেকেই তার শেষ বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে দেখছেন। তাই এই টুর্নামেন্টে তার লক্ষ্য শুধু অংশ নেওয়া নয়, নিজের অসমাপ্ত গল্পকে নতুনভাবে লেখা!
এসএন/কে