গাজীপুরের শ্রীপুরে নির্মিত দমদমা ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে দুই বছর আগে। প্রশাসনিক অনুমতি না থাকায় আসছে না বরাদ্দ, দেওয়া হচ্ছে না জনবল। অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে এর বিভিন্ন আসবাবপত্র।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে ২০২২ সালে নির্মাণ শুরু হয় দমদমা ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৪ সালে। এতে স্থাপন করা হয় রোগীর বেড, জেনারেটর, এয়ার কন্ডিশনার (এসি), ফ্যান, চেয়ার-টেবিলসহ আনুষঙ্গিক আসবাবপত্র।
স্থানীয়দের দান করা ৪৩ শতাংশ জমিতে পাঁচ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০২৪ সালে হাসপাতালটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স রূপালী এন্টারপ্রাইজ।
দমদমা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস ছাত্তার বলেন, আমাদের গ্রামের কয়েকজন মিলে হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ৪৩ শতাংশ জমি দান করি। এখানে আধুনিক ভবনসহ সবকিছু হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত চিকিৎসকের দেখা পেলাম না। কী কারণে চালু হচ্ছে না হাসপাতালটি সেটি আমাদের জানা নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, হাসপাতালটি চালু হলে আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ খুব সহজে চিকিৎসাসেবা নিতে পারত। আমাদের কপাল ভালো না। এত সুন্দর আধুনিক ভবন হলো, কিন্তু হাসপাতালটি চালু হলো না।
মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা সহকারী নার্সিং এটেন্ডেন্ট জোবাইদা আক্তার রিমা জানান, তিনি এখানে ডেপুটেশনে রয়েছেন। ২৫ মাস তিনি কোনো বেতন-ভাতা না পাওয়ায় এক ধরনের মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এত বড় হাসপাতালে একা থাকায় তিনি অনিরাপদ মনে করছেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শিহাব উদ্দিন বলেন, শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নে দমদমা গ্রামের ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটি নির্মাণ ব্যয় ছিল পাঁচ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। নির্মাণকাজ শেষ হওয়া পর এটি ২০২৪ সালের জুনে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের কমিটির মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নুরী বলেন, প্রশাসনিক অনুমতি না থাকায় হাসপাতালটি চালু করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও দপ্তরকে অবহিত করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু করা যাবে।