দুর্বার বার্সেলোনা, ফ্লিকের অধীনে নতুন উচ্চতায় ইয়ামালরা

পেটের ব্যথায় অস্বস্তিতে ছিলেন পেদ্রি। মাঠে স্বস্তি বোধ না করায় ডাগআউটে ইশারা করেন তিনি। এরপর ৭৩ মিনিটে তাকে তুলে নেন কোচ হান্সি ফ্লিক। এর আগেই ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছিল বার্সেলোনা। ২৮ মিনিটে পিছিয়ে পড়লেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের জয় নিয়ে গালাতাসারাইয়ের মাঠ ছাড়ে কাতালানরা। ম্যাচ শেষে পেদ্রির কথাতেও ফুটে উঠেছে দলের আত্মবিশ্বাস। গোল করার সামর্থ্য নিয়ে মৌসুমের শুরুতে যে প্রশ্ন উঠেছিল, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই তার জবাব দিচ্ছে বার্সা।

১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) রাতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের র‍্যামস পার্কে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে গালাতাসারাইকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। চলতি মৌসুমে প্রথম ১০ ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে ফ্লিকের দল। এই ১০ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছে ৪৩ বার। অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে গড়ে ৪.৩টি গোল করেছে বার্সেলোনা। বিপরীতে তাদের জালে বল ঢুকেছে মাত্র ৯ বার। এমন পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, আক্রমণ ও রক্ষণ দুই বিভাগেই দারুণ ছন্দে রয়েছে দলটি।

স্প্যানিশ ফুটবলের পরিসংখ্যানভিত্তিক এক্স অ্যাকাউন্ট ‘মিস্টার চিপ’ জানিয়েছে, সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০২ বছর পর আবারও মৌসুমের প্রথম ১০ ম্যাচে জয়ের নজির গড়েছে বার্সেলোনা। দীর্ঘ সময় পর এমন কীর্তি নিঃসন্দেহে দলটির দুর্দান্ত শুরুরই প্রতিফলন।

চোটের কারণে রাফিনিয়া মাঠের বাইরে থাকলেও আক্রমণে তার অভাব বুঝতে দিচ্ছেন না লামিনে ইয়ামাল। গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে দুটি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন এই তরুণ তারকা। ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে দলের ধারাবাহিকতা ও সম্মিলিত আক্রমণ। আপাতত বাজে ফর্মের কোনো ছাপই দেখা যাচ্ছে না তাদের খেলায়।

লা লিগায় আটটি এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে দুটি জয় নিয়ে মৌসুম শুরু করেছে বার্সা। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় প্রথম দুই ম্যাচেই দলটি করেছে ৯ গোল। এমন দুর্দান্ত শুরুর পরও অবশ্য আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না ফ্লিক। তাঁর মতে, ফুটবলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। বর্তমান পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হলেও দলের মূল লক্ষ্য বড় শিরোপা জয়। মে ও জুনে গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি জেতার জন্যই এখন থেকে নিজেদের প্রস্তুত করছে বার্সেলোনা।

রবার্ট লেভানডফস্কি ও ফেরান তোরেসকে ঘিরে পরিবর্তনের আলোচনা থেকে মৌসুমের শুরুতে প্রশ্ন উঠেছিল, বার্সার হয়ে নিয়মিত গোল করবেন কারা? মাঠের পারফরম্যান্সে সেই প্রশ্নের উত্তর মিলতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত দলের ১০ জন খেলোয়াড় গোলের দেখা পেয়েছেন। অর্থাৎ গোল করার জন্য নির্দিষ্ট একজনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না ফ্লিককে। দলের এই বহুমুখী আক্রমণভাগ নিয়ে সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছেন বার্সা কোচ। তার মতে, খেলোয়াড়েরা যেভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় মঞ্চেও দলটি নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।

ফ্লিকের অধীনে চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার গোল করার পরিসংখ্যানও চোখে পড়ার মতো। জার্মান কোচ দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রতিযোগিতায় ২৭ ম্যাচে ৮০ গোল করেছে কাতালান ক্লাবটি। প্রতি ম্যাচে গোলের গড় ২.৯৬। ১৯৯২ ৯৩ মৌসুম থেকে হিসাব করলে, অন্তত ২০টি ম্যাচে কোনো দলের দায়িত্ব পালন করা কোচদের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ ম্যাচপ্রতি গোলের হার।

গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে ম্যাচে আলাদা করে আলোচনায় এসেছেন লামিনে ইয়ামাল। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তা করলেও নিজে গোল করতে পারেননি তিনি। তবে চলতি মৌসুমে তাঁর অবদান কোনো অংশেই কম নয়। ১০ ম্যাচে আট গোলের পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন নয়বার। এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ফ্লিকও। তরুণ এই তারকার প্রশংসা করে বার্সা কোচ জানিয়েছেন, এই পর্যায়ের একজন খেলোয়াড়কে দলে পাওয়া অসাধারণ ব্যাপার। ইয়ামাল নিজের নৈপুণ্যে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছেন এবং পুরো ম্যাচেই অসাধারণ ফুটবল খেলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *