দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির আশা ম্লান হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার উচ্চ স্তরে থাকার উদ্বেগ নতুন করে তৈরি হয়েছে, যা স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলেছে। খবর রয়টার্সের।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) স্পট গোল্ড বা তাৎক্ষণিক বিক্রির জন্য নির্ধারিত স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক চার শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৩৭১ দশমিক ৯২ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। অথচ দিনের শুরুতেই এটি পাঁচ জুনের পর সর্বোচ্চ চার হাজার ৪৩৪ দশমিক ৮৪ ডলারে পৌঁছেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি নোটের ইল্ড বা লভ্যাংশ এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে, যা আয়হীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধারণ করার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের জলবায়ু ও পণ্য অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসাইন বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি মার্কিন ট্রেজারি ইল্ডকে উৎসাহিত করেছে, যা স্বর্ণের দামের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে।
একটি শান্তি চুক্তির জন্য ইরানের দেওয়া শর্তের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংঘাত, হামলা ও বিক্ষোভে নিহতদের জন্য তেহরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানোর পর তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়। এই বক্তব্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার সার্বিক প্রচেষ্টাকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। তেলের উচ্চ মূল্য বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে ও মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার উচ্চ রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে, যা স্বর্ণকে বিনিয়োগকারীদের কাছে কম আকর্ষণীয় করে তুলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পূর্বাভাস অপেক্ষা বেশি মূল্যস্ফীতি পাওয়া গেলে তা ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে আরও জোরালো করবে, যা স্বর্ণের বাজারে আরও নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে স্বর্ণের বাজারে এই মন্দার প্রভাবে অন্যান্য ধাতুর দামেও অস্থিরতা দেখা গেছে। বাজারে স্পট সিলভারের দাম এক দশমিক পাঁচ শতাংশ কমে ৬৪ দশমিক ৭৪ ডলারে নেমেছে। তবে প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক চার শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৭৬০ দশমিক ১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক চার শতাংশ কমে এক হাজার ৩৭৭ দশমিক ৮১ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।