থাইল্যান্ডে ভ্রমণের জন্য বিদেশি পর্যটকদের ওপর অতিরিক্ত ফি আরোপের পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। প্রাথমিকভাবে এই প্রস্তাবিত ফি ধরা হয়েছে ৪৫০ বাথ (প্রায় ১৫ ডলার)। আগামী বছরের শুরু থেকে এই ফি আদায় করা হবে বলে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে দেশটির পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। খবর থাইরাথ অনলাইনের।
সম্প্রতি থাইল্যান্ডের পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রী সুরাসাক পঞ্চারোনওরাকুল বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে ফি সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। জাতীয় পর্যটন নীতি কমিটি এ বিষয়ে কাজের পদ্ধতি ও ফি-এর হার অনুমোদন করেছে এবং এখন এ বিষয়ে সাধারণ নাগরিক ও অংশীজনদের মতামত নেওয়ার জন্য একটি গণশুনানির আয়োজন করা হবে। এক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ফি ধরা হয়েছে ৪৫০ বাথ। উড়োজাহাজের টিকিট, ওয়েবসাইট, অ্যাপস, কিয়স্ক কিংবা হোটেল ভাড়ার সঙ্গে যুক্ত করাসহ বিভিন্ন উপায়ে এই ফি সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রী সুরাসাক এই নীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, সংগৃহীত অর্থ পর্যটন কেন্দ্র ও অবকাঠামোর উন্নয়ন, গবেষণা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, পর্যটনের প্রসার এবং পর্যটকদের বীমা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার উদ্দেশ্যে তৈরি করা একটি তহবিলে জমা রাখা হবে।
পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রী সুরাসাক উল্লেখ করেন, থাইল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলের পর্যটন খাতের উন্নয়নের জন্য এমন একটি তহবিলের প্রয়োজন রয়েছে বলে অধিকাংশ মানুষই একমত হয়েছে। এই তহবিল না থাকলে থাইল্যান্ডের পর্যটন খাত থমকে যেতে পারে বা ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, কেননা প্রতি বছর এ খাতে সরকারি বাজেট সংকুচিত হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো বাজেটের বাইরে থেকে অর্থ সংস্থান করে সব দিক থেকে পর্যটনকে এগিয়ে নেওয়া।
পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘থাই থিও থাই প্লাস’ প্রচারণা কর্মসূচির অধীনে অভ্যন্তরীণ পর্যটন ও অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্রকল্পটি আগামী ১ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় চায় এটি যেন সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হতে যাওয়া ‘থাই চুয়াই থাই প্লাস ৬০/৪০’ কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পরিচালিত হয়। অর্থনৈতিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত থাই ব্যবসায়ীদের সহায়তা করতে একটি ঋণ অধ্যাদেশের মাধ্যমে সৃষ্ট বাজেট থেকে এই প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মসূচিতে এক হাজার বাথের কুপন দেওয়া হবে, যা শুধু রেস্তোরাঁই নয়, পাশাপাশি সেবামূলক শিল্পের বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করা যাবে যাতে এই খাতের আয় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫০টি কুপন ব্যবহার করতে পারবেন এবং এগুলো ক্রুংথাই ব্যাংকের ‘পাও তাং’ অ্যাপের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যাবে।
পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রী সুরাসাক আরও বলেন, ‘কারিগরি ব্যবস্থাপনা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের রেজিস্ট্রেশন প্ল্যাটফর্ম সম্পূর্ণ প্রস্তুত হলেই কেবল এই প্রকল্প চালু করা হবে; যাতে অতীতের মতো সিস্টেমের ধীরগতি বা জটিলতার মতো সমস্যায় পড়ে মানুষকে বিভ্রান্তিতে না পড়তে হয়। আমরা যত দ্রুত সম্ভব এটি শুরু করতে চাই, তবে জনগণ যেন কোনো ঝামেলা ছাড়াই নির্বিঘ্নে এটি ব্যবহার করতে পারে তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
থাইল্যান্ডের পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি নাত্তারিয়া তাওয়েওং বিদেশি পর্যটন ফি সংক্রান্ত অতিরিক্ত কিছু তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রথমে এই ফি ৩০০ বাথ বা ১০ মার্কিন ডলার ধার্য করার পরিকল্পনা করা হলেও, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি এবং আনুষঙ্গিক খরচ বিবেচনা করে দেখা গেছে এর উপযুক্ত হার ৪৯০ বাথের বেশি হওয়া উচিত। তবে পর্যটকদের ওপর যেন অতিরিক্ত প্রভাব না পড়ে, সে কথা মাথায় রেখে ৪৫০ বাথ (প্রায় ১৫ মার্কিন ডলার) নির্ধারণকে উপযুক্ত মনে করা হয়েছে।
নাত্তারিয়া আরও জানান, আগামী বছর আকাশপথের যাত্রীদের মাধ্যমে এই ফি সংগ্রহ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা রাজকীয় গেজেটে প্রকাশের ১৮০ দিন পর কার্যকর হবে। অন্যদিকে, স্থল ও নৌপথের প্রবেশদ্বারগুলোতে বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত চেকপয়েন্টগুলোর জটিলতা ও ভিড় সামলানোর জন্য ৩৬০ দিনের প্রস্তুতির প্রয়োজন থাকায় সেখানে পরে এই ফি সংগ্রহ শুরু হবে।