ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়মবহির্ভূতভাবে তথ্য গোপন ও ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে এক আমেরিকা প্রবাসীর বিরুদ্ধে সমন জারি করার অভিযোগ উঠেছে। সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দায়ের করা একটি মামলায় গত ১৪ মে এই সমন জারি করা হয়। ভুক্তভোগী প্রবাসী প্রতিকার চেয়ে আইনমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল ও জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ উপজেলার তারুয়া গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের ছেলে আল আমিনুর রশিদ শিপন দীর্ঘদিন যাবৎ সপরিবারে আমেরিকায় বসবাস করছেন। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১০ মে প্রতিপক্ষ কাজী আহম্মদুন নবী বাদী হয়ে প্রবাসী শিপনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে আগামী ২ জুন, ২০২৬।
অভিযোগ উঠেছে, গত ১৪ মে আদালতের জারিকারক শরীফ মিয়া সমন জারি করতে ওই প্রবাসীর বাড়িতে যান। সেখানে প্রবাসী শিপন উপস্থিত না থাকায় প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে তিনি মার্কিন নাগরিক এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানেই অবস্থান করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী সামাউন জানান, জারিকারক শরীফ মিয়াকে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে আসামি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। এরপরও জারিকারক তথ্য গোপন করেন এবং সমন গ্রহণে প্রতিবেশীরা অস্বীকৃতি জানালে নিজ হাতে কাগজে দুজনের নাম লিখে ভুয়া সাক্ষী সাজিয়ে সমনটি আদালতে জমা দেন।
তথ্য গোপন ও ভুয়া স্বাক্ষরের বিষয়ে জানতে চাইলে জারিকারক শরীফ মিয়া বলেন, আমি আসামির বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার চাচা সামাউনকে সমনটি গ্রহণ করতে বলি। তিনি অস্বীকৃতি জানালে আমি বারবার অনুরোধ করি। তারা স্বাক্ষর না দেওয়ায় আমি বাধ্য হয়ে তাদের সামনেই নাম লিখে নিয়ে আসি।
এ বিষয়ে আমেরিকা প্রবাসী আল আমিনুর রশিদ শিপন বলেন, আমি বর্তমান সরকারের কাছে এই অন্যায়ের প্রতিকার চাই। ইতোমধ্যেই আইনমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল ও জেলা বারের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছি। আশা করি, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আমি ন্যায়বিচার পাব।
এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও অতিরিক্ত সরকারি কৌশলী (এপিপি) অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান কানন বলেন, আসামি প্রবাসে থাকলে সাধারণত এভাবে সমন জারি হয় না। পরিবারের কেউ উপস্থিত থেকে তা গ্রহণ করলেও সেটি আইনগতভাবে জোরালো ভিত্তি পায় না।
অন্যান্য একাধিক আইনজীবী জানান, আসামি প্রবাসে অবস্থান করলে এবং দেশে সমন গ্রহণের মতো কোনো বৈধ ব্যক্তি না থাকলে, আসামির প্রবাসের ঠিকানায় ডাকযোগে অথবা কূটনৈতিক চ্যানেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমন জারি করার আইনি বিধান রয়েছে। তথ্য গোপন করে দেশে সমন জারি দেখানো সম্পূর্ণ বেআইনি।
চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির সুমন ময় চৌধুরী জানান, সমন জারির প্রক্রিয়ায় জারিকারকের কোনো অনিয়ম বা অবৈধ সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।