মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এখনো বেঁচে আছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে বাবার হত্যাকাণ্ডের পর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রক্ষণশীল রেডিও হোস্ট গ্লেন বেকের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি না তিনি মারা গেছেন। তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন। তার শরীরের বাম অংশ—হাত, পা, পুরো অংশটাই আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল। তিনি মারাত্মক আহত হয়েছিলেন, তবে তিনি মারা গেছেন বলে আমি মনে করি না।’ খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার মধ্যেও ইরানে সরকারিভাবে মোজতবা খামেনি তার দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তবে তার ধারাবাহিক অনুপস্থিতি এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিত্বদের উত্থান নিয়ে এমন গুঞ্জন তৈরি করেছে যে, তিনি হয়তো মারা গেছেন অথবা তিনি দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেই।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলা শুরুতেই এক বিমান হামলায় মোজতবা খামেনির বাবা আলী খামেনি নিহত হন। ইতোমধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে জয়ের কথা ঘোষণা করেছেন, কিন্তু হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে বা ইরানকে পারমাণবিক তৎপরতা ত্যাগে বাধ্য করতে সক্ষম হননি।
সম্প্রতি ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এই পদক্ষেপগুলো একটি খুব বড় বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা খুব শিগগিরই সেখানে একটি বড় জয় পেতে যাচ্ছি।’ ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি বাস্তবে পুরোপুরি উন্মুক্ত রয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত এবং অনেকটাই অবরুদ্ধ করে রেখেছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আপনি বলতে পারেন প্রণালিটি খোলা রয়েছে। আমরা এখন প্রণালির মধ্য দিয়ে অনেক জাহাজ নিয়ে যাচ্ছি। আমরা সেগুলো ভেতরে নিয়ে যাচ্ছি। মাইন সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দিতে পারি না। পুরো বিষয়টিই এই সংক্রান্ত, এটাই ৯৯.৯ শতাংশ। আমরা তাদের এটি পেতে দিতে পারি না, কারণ তারা দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং তারা এটি ব্যবহার করবে।’