জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বাংলাদেশ?

পরিসংখ্যানে এগিয়ে বাংলাদেশ, তবে সাম্প্রতিক দুই সিরিজের হার বলছে ভিন্ন কথা। তবে ক্রিকেটে অতীতের সাফল্যই শেষ কথা নয়, মাঠের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পক্ষে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ধারাবাহিক সাফল্য পায়নি টাইগাররা। তাই আসন্ন ম্যাচে জয় পেতে হলে ব্যাটিং ও বোলিং, দুই বিভাগেই নিজেদের সেরাটা দিতে হবে বাংলাদেশকে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ টাইগারদের সামনে। শারজায় কি জয়ে ফিরতে পারবে বাংলাদেশ, নাকি আবারও সিরিজ হারের স্মৃতি তাড়া করবে দলকে? 

আগামীকাল (১৭ অক্টোবর) শারজায় ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে ও আগফানিস্তানের মধ্যকার এই সিরিজের সব গুলো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে শারজায়। এই ভেন্যুতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা খুব বেশি সুখকর নয়। শারজায় আটটি ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশের জয় মাত্র একটি। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়েও এই মাঠে খুব একটা সফল নয়। ৩৩ ম্যাচে তাদের জয় মাত্র ৯টি। ফলে ভেন্যুর পরিসংখ্যান দুই দলের জন্যই বাড়তি চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অপরদিকে ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সামগ্রিক রেকর্ড অবশ্য বেশ ভালো। দুই দলের ৮৪ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ৫২টি, বিপরীতে জিম্বাবুয়ের জয় ৩২টি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই আধিপত্য ধরে রাখতে পারেনি টাইগাররা। ২০২২ সালে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারের পর চলতি বছরের জুলাইয়েও একই ব্যবধানে সিরিজ খুইয়েছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ সিরিজ জয় পাঁচ বছর আগে। ফলে অতীতের পরিসংখ্যানের চেয়ে বর্তমান পারফরম্যান্সই ম্যাচে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। শুরুতে উইকেট হারিয়ে ফেললে বড় সংগ্রহ গড়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই টপ অর্ডারের ব্যাটারদের দায়িত্বশীল শুরু এনে দেওয়ার পাশাপাশি মাঝের সারির ব্যাটারদেরও ইনিংসের হাল ধরতে হবে। দ্রুত রান তোলার তাড়নায় উইকেট বিলিয়ে না দিয়ে পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করাই হবে গুরুত্বপূর্ণ।

বোলিংয়েও বাংলাদেশকে হতে হবে পরিকল্পিত। এশিয়ান গেমসের মতন কৌশল গত ভুল অবশ্য নিজেও করতে চাইবেন না লিটন। জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের চাপে রাখতে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেংথে বল করতে হবে বোলারদের। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া এবং মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকে রাখা ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি, কারণ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একটি ক্যাচ বা রানআউটও ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ:

লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান/সৌম্য সরকার, তাওহীদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *