চট্টগ্রামে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ মৃত্যু, জাহাজ কাটা চলছিল গ্যাসমুক্ত না করেই

আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী স্ক্র্যাপ জাহাজে গ্যাসমুক্ত না করে কাটার কারণে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক তহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এলএনজি গ্যাস অবমুক্ত না করে জাহাজ কাটার কারণে ট্যাংক থেকে লিকেজ হওয়া বিষাক্ত গ্যাসে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি এলএনজি বহনকারী পুরোনো জাহাজ কাটার কাজ শুরু করেন শ্রমিকরা। কিন্তু কাজ করার সময় হঠাৎ বিষাক্ত গ্যাসের বিষক্রিয়ায় অজ্ঞান হয়ে যান কয়েকজন শ্রমিক।

পরে জাহাজটির একটি ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত হতে দেখলে কয়েকজন শ্রমিক এগিয়ে গিয়ে দেখার চেষ্টা করেন। এ সময় তারাও বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় তিন শ্রমিকের মরদেহ। এ সময় গ্যাসের বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া আরও ১০/১৫ শ্রমিককে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে আরও ৬ শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক তহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, যে জাহাজটি কাটা হচ্ছে, সেটি এলএনজি পরিবহণ করত। এ জাহাজের কিছু কিছু ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকতে পারে। এ ধরনের জাহাজগুলো আগে গ্যাসমুক্ত করে কাটতে হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজের পাশে আরও দুটি এলএনজিবাহী পুরোনো জাহাজ কাটা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ধরনের জাহাজ কাটার সময় যে নিয়মনীতি অবলম্বন করতে হয়, তা না করার কারণেই এত বড় দুর্ঘটনা হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।

এ বিষয়ে ইয়ার্ডের কর্মকর্তা মো. রাশেদ বলেন, জাহাজটি এক বছর ধরে কাটা হচ্ছে। শুক্রবার গ্যাস লিকেজের খবর পেয়ে শ্রমিকরা জাহাজে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধের কারণে নিরাপত্তার অভাব ছিল বলে স্বীকার করেন।

মো. আইয়ুব নামে স্থানীয় একজন অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পরও শ্রমিকদের বাইরে যেতে নিষেধ করে গেট বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এলাকার লোকজন যাতে আসতে না পারে, সে ব্যাপারে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। পরে এলাকাবাসী তাদের স্বজন নিহতের খবরে জড়ো হওয়ার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

পুলিশের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, অনিয়ম তদন্তে জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডটিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না এবং এই দুর্ঘটনায় কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *